১৬ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:৩২
তৃতীয় ধাপে আগামী ২৩ শে এপ্রিল রোজ শনিবার বানিয়াচং উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টি ইউনিয়নের ইউপি নির্বাচন-২০১৬ অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে প্রার্থীরা ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাচ্ছেন ও নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
বানিয়াচং সদরের তিনটি ইউনিয়ন ছাড়া বাকী ১১টি ইউনিয়নে দ্বিমুখী ও ত্রিমুখী লড়াইয়ের জোর সম্ভাবনা রয়েছে। ভোটারদের ভাষ্য মতে, 'দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় খুবই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে প্রার্থীদের মধ্যে।'
৫নং দৌলতপুর ইউনিয়নে মোট চেয়ারম্যান প্রার্থী সাত জন। তারা হলেন, মোঃ লুৎফুর রহমান (নৌকা), শেখ আব্দুল হাই (ধানের শীষ), গোপাল চন্দ্র দাস (চশমা), ছাইম উদ্দিন (দেওয়াল ঘড়ি), তোফায়েল আহমেদ (আনারস), মোঃ আব্দুল মোছাব্বির (ঘোড়া) ও মঞ্জুর কুমার দাস (মটরসাইকেল)। ভোটারা এ ইউনিয়নে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন। মোঃ লুৎফুর রহমান(নৌকা), শেখ আব্দুল হাই (ধানের শীষ)এবং তোফায়েল আহমেদ (আনারস) এর মধ্যে লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজার ৬শ ৯৭ জন। তন্মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯হাজার ২শ ৭৫ জন ও মহিলা ভোটার ৯হাজার ৪শ ২২ জন।
৬নং কাগাপাশা ইউনিয়নে মোট চেয়ারম্যান প্রার্থী চারজন। তারা হলেন, মোঃ এরশাদ আলী (নৌকা), মোঃ মাইন উদ্দিন (ধানের শীষ), আব্দুল মোত্তালিব (আনারস) ও মোঃ দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী (ঘোড়া)। এই ইউনিয়নে নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের মাঝে লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ইউনিয়নের শ্রমজীবী মোঃ আব্দুর রহমান(৫৫) বলেন, 'আমি যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিব, কারো কথায় ভোট দিব না।'
এই ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৩শ ২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮ হাজার ৭৩ জন ও মহিলা ভোটার ৮ হাজার ২শ ৫২ জন।
৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়নে মোট চেয়ারম্যান প্রার্থী নয় জন। তারা হলেন,হাবিবুর রহমান (নৌকা), মোস্তফা আলহাদী (ধানের শীষ), ইয়াওর মিয়া (মোটর সাইকেল), এনামুল হক সবুর (ঘোড়া), মোঃ আবু মুছা (অটোরিক্সা), মোঃ আব্দুল ওয়াহাব (খেজুর গাছ), ইকবাল আহমেদ চৌধুরী (আনারস), মোঃ ফারুক মিয়া শাহ(লাঙ্গল) ও শাহ আহমুদুর রহমান (চশমা)। ভোটারদের দৃষ্টিতে এগিয়ে রয়েছেন ইয়াওর মিয়া ( মটরসাইকেল), মোস্তফা আলহাদী (ধানের শীষ) এবং এনামুল হক সবুর (ঘোড়া)। এই তিনজনের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করছেন অনেকেই।
এই ইউনিয়নে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২হাজার ৬শ ১৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬হাজার ২শ ১৯জন ও মহিলা ভোটার ৬ হাজার ৩শ ৯৪ জন।
৮নং খাগাউড়া ইউনিয়নে মোট চেয়ারম্যান প্রার্থী চারজন। তারা হলেন, শাহ শওকত আরেফীন সেলিম (নৌকা), মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরী (ধানের শীষ), ফরিদ আলী (আনারস), মাসুদ কোরাইশি মক্কী (ঘোড়া)। অত্র ইউনিয়নে নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটারেরা।
এই ইউনিয়নে মোট ভোটারের সংখ্যা ১৫ হাজার ৭শ ৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ হাজার ৭শ ৪৩ জন ও মহিলা ভোটার ৮ হাজার ৪৯জন।
৯নং পুকড়া ইউনিয়নে মোট চেয়ারম্যান প্রার্থী সাতজন। তারা হলেন, এডভোকেট আলাউদ্দিন তালুকদার (নৌকা), মোঃ এরাজত মিয়া (ধানের শীষ), আনোয়ার হোসেন
(মটরসাইকেল), আবুল কালাম আজাদ (ঘোড়া), নুরুল হক (চশমা), মোঃ নাছির
উদ্দিন (আনারস), শেখ হিফজুর রহমান (খেজুরগাছ)।
ভোটারা বলছেন, এই ইউনিয়নে ত্রিমুখী লড়াই হবে এডভোকেট আলাউদ্দিন তালুকদার (নৌকা), মোঃ এরাজত মিয়া (ধানের শীষ) ও আবুল কালাম আজাদ (ঘোড়া) এর মধ্যে।
এই ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৬ হাজার ২শ ১২জন। তন্মধ্যে পুরুষ ৮হাজার ৭৬ জন ও মহিলা ভোটার ৮হাজার ১শ ৩৬জন।
১০নং সুবিদপুর ইউনিয়নে মোট চেয়ারম্যান প্রার্থী তিনজন। তারা হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরী (নৌকা), মোঃ আক্তার মিয়া আখঞ্জি (ধানের শীষ) ও মোঃ আব্দুর রউফ (ঘোড়া)। এই ইউনিয়নে একমুখী লড়াই হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন। ভোটারদের দৃষ্টিতে এগিয়ে রয়েছেন আবুল কাশেম চৌধুরী (নৌকা)। এই ইউনিয়নে মোট ভোটারের সংখ্যা ১০ হাজার ৩শ ৩০জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ১শ ৩৭জন ও মহিলা ৫ হাজার ১শ ৯৩ জন।
১১নং মক্রমপুর ইউনিয়নে মোট চেয়ারম্যান প্রার্থী পাঁচজন। তারা হলেন,আহাদ মিয়া (নৌকা), মোঃ কুহিনুর আলম (ধানের শীষ), আবুল বাসার (মটরসাইকেল),মোঃ আব্দুর রউফ (ঘোড়া) ও মোঃ ছাদেকুর রহমান লিটন (আনারস)। এই ইউনিয়নে এগিয়ে রয়েছেন আহাদ মিয়া (নৌকা), মোঃ কুহিনুর আলম (ধানের শীষ)। এই ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ১শ ৬০জন। পুরুষ ভোটার ৮হাজার ২শ ৪১ জন ও মহিলা ভোটার ৭ হাজার ৯শ ১৯ জন।
১২ নং সুজাতপুর ইউনিয়নে মোট চেয়ারম্যান প্রার্থী সাতজন। তারা হলেন, আব্দুল কদ্দুছ (নৌকা), প্রবীর কুমার চক্রবর্তী (ধানের শীষ), মোঃ এনাম খান চৌধুরী (মটরসাইকেল), মোঃ বাছির মিয়া (চশমা), মলু মিয়া তালুকদার (ঘোড়া), মোঃ লিয়াকত খান (লাঙ্গল) ও
মোঃ হেলাল মিয়া (আনারস)। ১২ নং সুজাতপুর ইউনিয়নে আব্দুল কদ্দুছ (নৌকা), প্রবীর কুমার চক্রবর্তী (ধানের শীষ) ও মোঃ এনাম খান চৌধুরী (মটরসাইকেল) মধ্যে লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ইউনিয়নে মোট ভোটারের সংখ্যা ১৩ হাজার ৫০জন। পুরুষ ভোটার ৬ হাজার ৪শ ৯৬ জন ও মহিলা ভোটার ৬ হাজার ৫শ ৫৪জন।
১৩ নং মন্দরী ইউনিয়নে মোট চেয়ারম্যান প্রার্থী ছ'জন। তারা হলেন, শেখ সামছুল হক (নৌকা), মোঃ আব্দুর রব (ধানের শীষ), মোঃ আব্দুল হাকিম (ঘোড়া), মোঃ ইকবাল হোসেন (আনারস), মোঃ নুরুল হুদা (মোটর সাইকেল), নুর মিয়া (টেলিফোন)।
এই ইউনিয়নে নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকে লড়াই হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন।
এই ইউনিয়নে মোট ভোটার ১২ হাজার ৬৪ জন। তার মধ্যে পুরুষ ৬ হাজার ১শ ৩৮ জন ও মহিলা ৫ হাজার ৯শ ২৬জন।
১৪ নং মুরাদপুর ইউনিয়নে মোট চেয়ারম্যান ছ'জন। তারা হলেন- মোঃরফিকুল হক পাশা (নৌকা), মোঃমধু মিয়া (ধানের শীষ), মোঃ আফরাজুল চৌধুরী (মটরসাইকেল), জালাল উদ্দিন আহমেদ (আনারস), শেখ মোস্তাকিমুল হোসেন (চশমা) ও সুহেল চৌধুরী (ঘোড়া)। এই ইউনিয়নে দ্বিমুখী লড়াই হবে বলে অনেকেই মনে করছেন। ভোটারদের দৃষ্টিতে এগিয়ে রয়েছেন মোঃমধু মিয়া (ধানের শীষ) ও মোঃ আফরাজুল চৌধুরী (মোটরসাইকেল)। এই ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৯ হাজার ৩শ ২৪ জন। পুরুষ ৪ হাজার ৭শ ৩৫ জন ও মহিলা ভোটার ৪ হাজার ৫শ ৮৯জন।
১৫ নং পৈলারকান্দি ইউনিয়নে মোট চেয়ারম্যান প্রার্থী চারজন। তারা হলেন- মোঃ ফজলুর রহমান খান (নৌকা), মোঃ কামাল তালুকদার (ধানের শীষ), মোঃ আনিসুর রহমান তালুকদার (ঘোড়া) ও মোঃ নাসির উদ্দিন চৌধুরী (আনারস)। ঘোড়া ও নৌকার মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে ভোটারা মনে করছেন। এই ইউনিয়নে মোট ভোটার ১২ হাজার ৬শ ৮জন। তন্মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ হাজার ৩শ ২৮ জন। ও মহিলা ভোটার ৬ হাজার ২শ ৮০জন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বানিয়াচং উপজেলার সভাপতি এডভোকেট জসিম উদ্দিন নির্বাচন নিয়ে সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোরকে বলেন, 'এবারেই প্রথম দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন হচ্ছে, প্রার্থীরা আচরণবিধি মেনে চলছেন; কারণ এপর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো আচরণবিধি লঙনের অভিযোগ আসে নি। কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে, ঐ কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনের দিন পর্যাপ্ত পরিমান আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিযুক্ত করতে হবে।'
উল্লেখ্য, ১৩৯টি কেন্দ্রে ৬৩২ টি কক্ষে একযোগে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এ উপজেলায় মোট ভোটর সংখ্যা ২ লাখ ২০হাজার ২ শ ৩২ জন। তন্মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯ হাজার ৫ শ ৫ জন আর মহিলা ভোটার ১ লাখ ১০ হাজার ৭ শ ২৭ জন।
আপনার মন্তব্য