১৬ এপ্রিল, ২০১৬ ১৬:৩২
উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে বানিয়াচংয়ের সিংগুয়ার বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে পাকা ধান। এতে বিশাল অঙ্কের ক্ষতির মুখ পড়েছেন কৃষকরা।
ইতিমধ্যে বানিয়াচংয়ের হাওরের ৩শ ৫৫ হেক্টর ও আজমিরীগঞ্জের হাওরে ১শ
৫০ হেক্টর জমির ধান পানিতে সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। ফসল তলিয়ে প্রায় ৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা।
শনিবার ক্ষতিগ্রস্থ হাওরগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ
অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাহ আলম, উপজেলা কৃষি অফিসার মোস্তফা ইকবাল আজাদ।
এসময়সাথে ছিলেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহিবুর রহমান, আব্দুল আলীম, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মোঃ আলম উদ্দিনসহ কৃষি বিভাগের
বিভিন্নস্থরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
পরিদর্শনকালে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক হোসাইন আহমেদ, ওয়াদুদ মিয়া, সুহেল মিয়া, রুহুল আমীন, মোজাফ্ফর আলী, মাজুম উল্বাসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক কৃষকের সাথে আলাপকালে তারা জানান, 'হঠাৎ করে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি ও অতি বৃষ্টির কারনে সিংগুয়ার বাঁধ ভেঙ্গে তাদের সারা বছরের স্বপ্ন পানির নীচে তলিয়ে গেছে।'
ধানগুলো কাঁচা থাকায় দীর্ঘদিন পানির নীচে থাকার ফলে এগুলো আর কর্তন করা সম্ভব হবে না বলেও তারা জানান। ক্ষতিগ্রস্থ হাওরগুলোর মধ্যে রযেছে গনিয়া ভাঙার হাওর, নলাইপুর হাওর, কামারুন এর হাওর, আমাইখালির হাওর, জিলুয়ার হাওর, খরতীর হাওর, দোমাাইর হাওর, দিঘলবাগের হাওর, বদলপুর হাওর। এসকল হাওরের ধানী জমিগুলো সম্পুর্ণ পানিতে তলিয়ে গেছে।
এব্যাপারে হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ শাহ আলম সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, 'অতি বৃষ্টি ও উজানের পানির কারনে কৃষকদের ধানী জমির যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরনীয়, তিনি আরও বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এর মাধ্যমে সাবের বাঁধ থেকে সিংগুয়ার বাঁধ পর্যন্ত বেড়ীবাঁধ দিয়ে স্লুইস গেইট নির্মাণ করা হলে হাজার হাজার কৃষকের ধানী জমির ধানগুলো রক্ষা করা সম্ভব হবে। নতুবা প্রতি বছরই এ ধরনের বিপদের শঙ্কা থেকে যাবে।'
উপজেলা কৃষি অফিসার মোস্তফা ইকবাল আজাদ জানান, 'আগামী ২২ ও ২৩ এপ্রিল এর মাঝামাঝি সময়ে শিলাবৃষ্টিসহ ঝড়ের পূর্ভাবাস এর খবর আবহাওয়া অফিস থেকে তাদের অবহিত করা হয়েছে।'
এ সময়ের আগে পাঁকা ধানগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে কর্তন করতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের অবহিত করতে সকল মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলেও তিনি জানান।
আপনার মন্তব্য