২২ জুন, ২০১৬ ১৮:১০
বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগরে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ। এদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত রুবেলও রয়েছেন।
আটককৃতরা হচ্ছে- আলীনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল মুমিত সুমন (৩০), মৃত সিকই মিয়ার ছেলে আবদুল মুমিন লিমন (৩২) ও রাজন (২৮), তুতাই মিয়ার ছেলে রুবেল আহমদ (২২), মৃত ছিদ্দিক আলীর ছেলে ফাত্তাহ (৫৫), মৃত অলিউর রহমান চৌধুরীর ছেলে রায়হানুর রেজা চৌধুরী রাহেল (৩৮) ও মৃত কদর আলীর ছেলে শাকিল (৩৫)।
আরও পড়ুন- বিয়ানীবাজারে ‘পুলিশের উপস্থিতিতে’ যুবককে কুপিয়ে হত্যা
এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে দুই দুই নারীকে থানায় নিয়ে এসেছে পুলিশ। তাদের নাম জানা যায় নি।
পুলিশের উপস্থিতিতেই হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করলেও পুলিশের দাবি, ঘটনার সময় সেখানে পুলিশের কোনো সদস্য ছিলেন না।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুবের আহমদ সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে, বলেন, "সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়, পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশও পাঠানো হয়েছিল।"
গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করে ওসি বলেন, "মোট ৯ জনকে নিয়ে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে, তবে এর মধ্যে দুই নারীকে নিরাপত্তার কারণে নিয়ে আসা হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"
তিনি বলেন গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যেও ২/৩ জন আহত রয়েছে, তাদের বিয়ানীবাজারে চিকিৎসা দেয়া হবে। নিহত মাহতাব উদ্দিনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
বুধবার (২২ জুন) সকাল ১০টায় জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধিতার জের ধরে মাহতাব উদ্দিন (৪৫) কে কুপিয়ে হত্যা করে রুবেল তালুকদার।
জানা যায়, জমি নিয়ে বিরোধ আঁচ করে নিজের প্রভাব খাটাতে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা সুমন আগে থেকেই এলাকায় পুলিশ নিয়ে এসেছিলেন। সকাল ১০টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতেই মাহতাব উদ্দিনের সাথে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসীরা জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলের অদূরে থাকতেই সুমনের ভাতিজা রুবেল দা দিয়ে কুপিয়ে মাহতাব উদ্দিনকে হত্যা করে তার বাড়িতে চলে যায়। এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে সুমন-রুবেলদের বাড়ি ঘেরাও করে।
ঘণ্টা তিনেক ঘেরাওয়ের পর বিয়ানীবাজার থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে আসামীদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।
আপনার মন্তব্য