সৌরভ আদিত্য, শ্রীমঙ্গল

১৬ আগস্ট, ২০১৬ ১৯:৩৪

প্রচণ্ড দাবদাহে অতিষ্ঠ শ্রীমঙ্গলের জনজীবন

প্রচণ্ড দাবদাহে অতিষ্ঠ পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলের বাসিন্দারা।

রৌদ্রের খরতাপে রাস্তাঘাটে লোক সমাগম কম দেখা গেছে। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না।

হঠাৎ রোদ, হঠাৎ মেঘলা, হঠাৎ বৃষ্টিতে জনগণের অশান্তি চরম আকার ধারণ করেছে । বৃষ্টি হলেও গরম কমার কোন লক্ষণই পরিলক্ষিত হচ্ছেনা। আকাশে মেঘ জমলেও কমছে না গরম। বরঞ্চ শরীরে ঘাম হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে।  ফলে দেহ হয়ে পরছে পানিশূন্য। প্রস্রাব কম হচ্ছে। দেখা দিচ্ছে নানা প্রকার পানিশূন্যতা জনিত রোগ।

এই গরমের কারণে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছে শিশু ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। বড়রা এই গরম অনেকটা সামলে নিলেও সামলাতে পারছেনা ১৪ বছরের নিচের শিশুরা। ফলে গরম জনিত কারণে অসুস্থ হয়ে কেউ যাচ্ছে সরকারি হাসপাতালে আবার কেউ যাচ্ছে প্রাইভেট ডাক্তারের কাছে।

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জয়নাল আবেদিন টিটো জানান, বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রচুর রোগী পানিশূন্যতা ও ঠাণ্ডাজনিত কারণে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে শূন্য (০) থেকে এক (১) বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি। এরা জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট রোগের চিকিৎসা নিতে তাদের বাবা-মায়ের সাথে হাসপাতালে আসছে।

এছাড়া পানিশূন্যতার কারণে ব্লাড প্রেশার স্বাভাবিকের তুলনায় নেমে যাবার কারণেও অনেক বয়স্ক রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন। তবে সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করার কারণে অনেক রোগী সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছে। ফলে হাসপাতালে রোগীর ভিড় একটু কম রয়েছে।

ডা. মো. জয়নাল আবেদিন টিটো জনসাধারণের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দিয়ে বলেন, এই গরমে প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি ও ঘরে তৈরি ফলের জুস, লেবু মিশ্রিত শরবত, ডাব ও খাবার স্যালাইন পান করা প্রয়োজন। তাছাড়া শরীর গরম হয় এমন খাবারগুলো এড়িয়ে চলারও পরামর্শ দিয়েছেন।

ঘামে শিশুদের শরীর ভিজে গেলে তা মুছে দিতে হবে নইলে শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন ঠাণ্ডাজনিত রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিশুরা যেন রৌদ্রের মধ্যে খেলাধুলা না করে সেদিকেও বাবা-মাকে নজর রাখার পরামর্শ দেন। রাস্তার পাশের খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শও দেন।

প্রচণ্ড গরম, প্রচুর বৃষ্টিপাত ও প্রচণ্ড শীত এই তিনটি আবহাওয়া চা বাগানের অনুকূল পরিবেশ। কিন্তু এ বছর বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক কম। আষাঢ়-শ্রাবণ দুই মাস বর্ষাকাল হলেও শ্রাবণের শেষ ভাগে এসে বৃষ্টি নেই বললেই চলে। তবে গতকাল রাতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা একটানা বৃষ্টি হয় কিন্তু গরম কমেনি এতটুকুও।

গত কয়েকদিনের গরমে পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে পর্যটকের সংখ্যাও কমে গেছে। তবে স্বস্তির আভাস দিয়ে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, এই গরম কয়েকদিনের মধ্যে কমে আসবে এবং বৃষ্টিও হবে। এই দাবদাহের যন্ত্রণা কাটিয়ে সবুজের লীলাভূমি শ্রীমঙ্গল আবার ভরে উঠবে পর্যটকদের সমাগমে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত