বিশ্বনাথ প্রতিনিধি

১৬ আগস্ট, ২০১৬ ২০:৪৬

দুই যুগ ধরে গ্রামের নামকরণ নিয়ে দ্বন্দ্ব নিরসন হয়নি বিশ্বনাথে

সিলেটের বিশ্বনাথে দীর্ঘ দুই যুগেও একটি গ্রামের নামকরণ দ্বন্দ্ব নিষ্পত্তি হয়নি। গ্রামের নামকরণ নিয়ে একই গ্রামের দু’পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে, এমনকি আদালতে উভয় পক্ষের মামলাও রয়েছে।

দ্বন্দ্ব নিরসন না হওয়ায় দিন দিন গ্রামবাসীর মধ্যে প্রতিহিংসার জন্ম নিচ্ছে। উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের নামকরণ দ্বন্দ্বের দু’পক্ষের এক পক্ষের দাবি গ্রামের নাম ‘ছোট খুরমা’ অন্য পক্ষের দাবি গ্রামের নাম ‘পেছি খুরমা’।

মঙ্গলবার (১৬ আগষ্ট) উভয় পক্ষকে নিয়ে অলংকারী ইউনিয়ন পরিষদে স্থানীয় সরকার সিলেটের বিভাগের পরিচালকসহ উপজেলা প্রশাসনের উবর্ধতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গ্রামের উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌছতে পারেননি তারা।

ফলে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ভূমি ক্রয়-বিক্রয়, জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন সরকারী সার্টিফিকেট জটিলতায়ও বিপাকে রয়েছেন গ্রামের হাজারো মানুষ।

জানা গেছে, উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নে ‘ছোট খুরমা’ নামে একটি গ্রাম রয়েছে বলে দাবি এক পক্ষের। অন্যদিকে ওই গ্রামের নাম ‘পেছি খুরমা’ বলে দাবি করে আসছেন অপর পক্ষের লোকজন। এতে আদালতে উভয় পক্ষের লোকজন মামলা মোকদ্দমায়ও জড়িয়েছেন। দ্বন্দ্ব নিরসনে উভয় পক্ষকে নিয়ে মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে ইউনিয়ন কমপ্লেক্সে বসেন স্থানীয় সরকার সিলেট বিভাগের পরিচালক মতিউর রহমান।

এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাশহুদুল কবীর, ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল হক, থানার ওসি (তদন্ত) মাসুদুর রহমান, স্থানীয় চেয়ারম্যান লিলু মিয়া ও সার্ভেয়ার আব্দুল রাকিব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

‘ছোট খুরমা’ গ্রামের নামকরণের পক্ষে প্রায় ৭৫ ভাগ উপস্থিতির মধ্যেও বৈঠকে গ্রামের উভয় পক্ষের ৪ জন করে ৮ জনের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়।

বক্তব্য শুনার পর বিভাগীয় পরিচালক তাদের কাছে দুটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান। তবে প্রস্তাব দুটির একটি হচ্ছে ‘ছোট খুরমা’ ও ‘পেছি খুরমা’ নামে দুটি গ্রাম ভাগ করা। অন্য প্রস্তাবটি হচ্ছে গোপন ভোটের মাধ্যমে গ্রামের নাম নির্ধারণ করা।

এ দুটি প্রস্তাবে ‘ছোট খুরমা’ গ্রামের পক্ষের লোকজন রাজি হলেও প্রত্যাখ্যান করেন ‘পেছি খুরমা’ নামকরণের পক্ষের লোকজন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত