১৭ আগস্ট, ২০১৬ ০০:৩২
৭ নং ওয়ার্ডবাসীর ব্যানারে প্রায় প্রতিদিনই এমন মানববন্ধন হচ্ছে
"তারাপুর এলাকার সকল বাসিন্দাদের কিছু মূল্য পরিশোধ করে হলেও আবাসন সমস্যার সমাধান করা হোক। অন্যথায় রাগীব আলীর যত সম্পদ আছে, তা জব্দ করে তারাপুরবাসীর ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে উচ্ছেদ অভিযান চালালে বসতভিটাহারা মানুষ তারাপুর চা-বাগানের পাশে রাগীব আলীর মালনীছড়া চা-বাগানের বাংলোতে গিয়ে আশ্রয় নেবে।"
মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এমনটাই বলছিলেন ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও তারাপুর এলাকার উচ্ছেদ বিরোধী জনগণের পক্ষের আন্দোলনের নেতা আফতাব হোসেন খান।
কাউন্সিলর আফতাব জানান গত রোববার (১৪ আগস্ট) দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচি পালন শেষে রাতে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় তারাপুর অংশের বাসিন্দারাই পলাতক রাগীব আলীর সম্পদ জব্দ করে তাদের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
সিলেটে জাল-জালিয়াতির মধ্যমে দখল করে তারাপুর চা বাগানে কথিত দানবীর রাগীব আলীর গড়ে তোলা অবৈধ রাজ্যের বাসিন্দারা এখন উচ্ছেদ আতংকে। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বিপাকে পড়েছেন তারা। দেবোত্তর সম্পত্তি দখল নিয়ে চা বাগান ধ্বংস করে মেডিকেল কলেজ ছাড়াও গড়ে উঠেছে প্লট, বহুতল ভবন, মার্কেট, কমিউনিটি সেন্টার সহ ব্যক্তি মালিকানাধীন কয়েকশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সেখানে গড়ে ওঠেছে ছাত্রাবাসের মতো বহুতল ভবন ও মদন মোহন কলেজের তারাপুর ক্যাম্পাস।
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও জেলার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব হোসেন খানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, "আদালতের রায়ের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। এর বাইরে যাওয়া আমাদের কোন সুযোগ নেই। "
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, " সর্বোচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়ন করা হলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বেকার, বসতভিটা হীন হয়ে পড়বে হাজার হাজার মানুষ। তাই ক্ষতিপূরণের একটা ব্যবস্থা করতে হবে।"
তিনি বলেন, "গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা অথবা উচ্ছেদ করা হলে এই হাজার হাজার মানুষ কোথায় যাবেন?
তারাপুর চা বাগানে গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বললে তাতেও উঠে আসে এ উদ্বেগ-আতংকের চিত্র। উচ্চ আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা বলেন, রায় বাস্তবায়ন হলে শত শত ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সহস্রাধিক মানুষ বেকার হয়ে যাবে। আদালত সব স্থাপনা সরানোর নির্দেশ দিলেও ব্যবসায়ীদের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নেননি। তবে এমন ক্ষতির জন্য তারা রাগীব আলীকেই দায়ী করেছেন। তারা বলছেন, তাকে বিশ্বাস করেই আজ সর্বস্বান্ত হতে বসেছেন তারা।
উল্লেখ্য, সিলেট নগরের পাঠানটুলার উপকণ্ঠে ৪২২ দশমিক ৯৬ একর জায়গার তারাপুর চা-বাগান দেবোত্তর সম্পত্তি। ১৯৯০ সালে ভুয়া সেবায়েত সাজিয়ে বাগানটির দখল নেন রাগীব আলী। গত ১৯ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের রায়ে চা-বাগান দখল করে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা ছয় মাসের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। উচ্চ আদালতের এ রায় বাস্তবায়নে সিলেটের জেলা প্রশাসন রাগীব আলীর মেডিকেল কলেজ, হাসপাতালসহ সব অবৈধ স্থাপনা ১৩ আগস্টের মধ্যে সরাতে দ্বিতীয় দফা গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। অন্যথায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
এরপরও স্থাপনা না সরানোয় হাইকোর্টে মামলা থাকা ওই মৌজার তিন প্লট চিহ্নিতকরণ শেষে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরুর কথা রোববার সিলেটটুডেকে জানিয়েছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদীন।
আপনার মন্তব্য