বানিয়াচং প্রতিনিধি

২০ আগস্ট, ২০১৬ ১৭:১৫

বানিয়াচংয়ে নিষিদ্ধ গাইড বইয়ের ছড়াছড়ি, ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা

বানিয়াচংয়ে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ নোট বই ও গাইড বইয়ের ছড়াছড়ি। সয়লাব হয়ে পড়েছে সব কটি হাট-বাজারে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীগণ নিম্নমানের লেখকের বই পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

জানা যায়, একশ্রেণির ভুঁইফোড় বই প্রকাশক ও লাইব্রেরীর মালিকদের যোগসাজশে বছরের শুরুতেই বই ছাপিয়ে বাজারে ছাড়ে। প্রকাশনীর মালিক ও লাইব্রেরীর মালিকগণ চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে ডিসেম্বর মাস আসলেই মোটা অংকের টাকার লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের প্রকাশিত নোট ও গাইড বই ছাত্রছাত্রীদের কাছে বিক্রয়ের জন্য চুক্তি করে।

সেই চুক্তি অনুযায়ি স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্টান এই নিম্নমানের লেখকের বই নেয়ার জন্য তালিকা প্রস্তুত করে। তালিকাগুলো প্রতিটি ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের ধরিয়ে দেয়। আর এই তালিকায় লেখা থাকে বই ও লাইব্রেরীর নাম। সেই বইগুলোর মধ্যে কোন উন্নত লেখকের কলাম, বাচনভঙ্গি, উচ্চারণ, শব্দ, সমাস, ধ্বনি, কারক, সন্ধি ইত্যাদি থাকেনা। যেগুলো থাকে, সেগুলো ভুলে ভরা। যা পড়ে শিক্ষার্থীদের যেমন মেধার অবনতি ঘটে, তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তা অত্যন্ত ক্ষতিকারক বলে ধারণা সচেতন মহলের।

জানা যায়, প্রকাশক ও লাইব্রেরীর মালিক মোটা অংকের কমিশন পাওয়ার লোভে এ ব্যবসা চালিয়ে আসছে। যদিও সরকার বর্তমানে সৃজনশীল পদ্বতিতে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করায় নোট বই ও গাইড বইয়ের কোন প্রয়োজন পড়েনা। এরপর ও কতিপয় শিক্ষক সমাজ জানার পরও মোটা কমিশনের লোভে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিভাবকরা জানান।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এ ব্যবসা মূলত গ্রাম অঞ্চলে খুব বেশী। চতুর ভুঁইফোড় প্রকাশনী ও মফস্বল এলাকার লাইব্রেরীর মালিকরা শহর এলাকায় প্রশাসনের নজরদারী বেশী থাকায় এ ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য বেছে নিয়েছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলকে।

বানিয়াচং সদরের প্রায় সবকটি লাইব্রেরী ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি করে নিষিদ্ধ নোট বই ও গাইড বই রাখা। পাঠ্যপুস্তকের সাথে চাইলেই পাওয়া যাচ্ছে সব শ্রেণির গাইড ও নোট বই। অতি মুনাফার লোভে প্রকাশনা কর্তৃপক্ষের বিক্রয় প্রতিনিধি ও বইয়ের দোকানের মালিক কিছু শিক্ষককে এসব বই বাজারজাতকরণ ও বিক্রির জন্য বিভিন্ন প্রলোভন দেখান। এতে শিক্ষকরাও এসব বই কিনতে ছাত্রছাত্রীদের অনেকটা বাধ্য করছেন।

সহজেই পাওয়া যাওয়ায় এবং কোথাও কোথাও শিক্ষকদের চাপে পড়ে চড়া দামে এসব গাইড ও নোট বই কিনতে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এই বইয়ের মধ্যে এমন নাম দেয়া হয়েছে যে বইগুলো আসল-নকল চেনা বড় দায়। এর মধ্যে রয়েছে জুপিটার, লেকচার, পপি, একের ভিতর সব, পাঞ্জেরী, আলোড়ন, দিকদর্শন, টাচ টু পাশসহ বিভিন্ন নামের গাইড ও নোট বই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, সৃৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতিকে সফল করতে হলে সরকারের প্রণীত নীতিমালা অনুযায়ী পাঠদান করতে হয়। এ ক্ষেত্রে গাইড ও নোট বইয়ের প্রয়োজন পড়েনা। এজন্য সরকারিভাবে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণে অনেক শিক্ষকই অনেক বিষয় বুঝতে পারেন না। এ কারণে শিক্ষার্থীদের গাইড ও নোটের প্রতি আগ্রহ কমছে না।

এ বিষয়ে বানিয়াচং মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কাওছার শোকরানা বলেন, আমরা প্রায়ই বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে থাকি। কিন্তু কোন শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের কাছ থেকে গাইড ও নোট বই সম্পর্কে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আমরা নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেব। আর বইয়ের দোকানগুলোতে প্রকাশ্যে গাইড ও নোট বই বেচাকেনার বিষয়ে আমরা সরাসরি কোন ব্যবস্থা নিতে পারি না। এটা প্রশাসনের বিষয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত