নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ আগস্ট, ২০১৬ ০০:৩১

‘কম টাকায় সৌদি যেতে ভারতে পাড়ি দিয়েছিলো আসামে আটক ৪ বাংলাদেশি’

জঙ্গি সন্দেহে আসামে আটক

ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ থেকে জঙ্গি সন্দেহে আটককৃতরা কম টাকায় সৌদী আরবে যাওয়ার জন্য ভারতে পাড়ি জমিয়েছিল। সেলক্ষ্যে ভারতের পাসপোর্ট সংগ্রহের চেষ্টাও করেছিল তারা। পুলিশের কাছে এমনটি দাবি করেছেন আটককৃত চার জনের পরিবারের সদস্যরা। এদের বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায়।

পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে স্থানীয় পুলিশ জানায়, মূলত পাঁচজন বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে করিমগঞ্জে পৌঁছায়। এর মধ্যে মো. আবদুল আহাদ নামের একজন মারা যায়। আর তার লাশ ফেলতে গিয়েই পুলিশের হাতে ধরা পড়ে বাকি চারজন।

বৃহস্পতিবার জকিগঞ্জে প্রত্যেকের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ এমন তথ্য পেয়েছে। আটককৃতরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বলেও স্থানীয় লোকজন পুলিশকে জানিয়েছে। আসাম পুলিশ ওই চার যুবককে সন্দেহভাজন জঙ্গি বলে ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।

মঙ্গলবার করিমগঞ্জের নিলাম বাজার এলাকা থেকে এদের আটকের পর প্রথম থেকেই তাদের জঙ্গি হিসেবে সন্দেহ করছে রাজ্য পুলিশ। সেইসঙ্গে সেখানকার স্থানীয় দৈনিকে আটককৃতরা আইএস-এর সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে বলে জানিয়েছে।

করিমগঞ্জ পুলিশের কাছে আটককৃতরা জানিয়েছে তাদের বাড়ি সিলেট জেলার জকিগঞ্জে। সিলেট পুলিশ এর সত্যতা পেয়ছে। এরমধ্যে মো. আবদুল আহাদ নামের যিনি করিমগঞ্জে মারা গিয়েছেন তার বাড়ি উপজেলার নিয়াগুল গ্রামে। তার বাবা মোজাম্মেল আলী।

পুলিশ তার পরিবারের কাছে গিয়ে জানতে পেরেছে, তিনি বাড়ির কাউকে না বলে ভারতে যান। পরের দিন ছেলের কাছে ফোন করে জানান, কম টাকায় সৌদীতে কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। এরপর তার পরিবারের লোকজন বুধবার জানতে পারে তিনি করিমগঞ্জে মারা গিয়েছেন।

অাটককৃতা হলো উপজেলার কালাকুটার মাহমুদ আলীর পুত্র সাব্বির আহমদ, শাহজাহানপুর গ্রামের মাসুক আহমদের পুত্র সুমন আহমদ ও আনারসা গ্রামের হাজী মুছব্বির আলীর পুত্র দিলওয়ার ওরফে জামাল ও কানাইঘাটের শাহিদ আহমদ।

পুলিশের কাছে জকিগঞ্জের তিনজনের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এরা সবাই কম টাকায় সৌদী আরবে যাওয়ার জন্য ভারতে যায়। করিমগঞ্জের কোনো এক দালাল চক্রের কাছ থেকে জানতে পারে সেখানে ভারতীয় পাসপোর্ট সংগ্রহ করলেই কম টাকায় সৌদী যেতে পারবে।

জকিগঞ্জ থানার এসআই এ এইচ মাহমুদ জানিয়েছেন, প্রত্যেকের পরিবার ও স্থানীয় লোকজন জানান, ধৃতরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এবং তাদের বিরুদ্ধে জঙ্গি কার্যক্রমের কোনো তথ্য নেই এলাকাবাসীর কাছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত