এমডি মুন্না, জগন্নাথপুর

২৭ আগস্ট, ২০১৬ ০০:১৮

জগন্নাথপুরবাসীর যন্ত্রণার নাম ভাঙ্গাচোরা সড়ক

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার অধিকাংশ সড়কের অবস্থাই করুণ। ভাঙ্গাচোরা এসব সড়ক দিয়ে চলাচলই দায়। তবু সড়কগুলো সংস্কারে নেই তেমন কোনো উদ্যোগ।

সড়কগুলো যানচলাচলের অনুপোযোগি হয়ে ওঠায় জীবিকার তাগিধে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীসহ যানবাহন চালকদের চলাচল করতে হচ্ছে।

জগন্নাথপুর-সিলেট, জগন্নাথপুর-সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর-আউশকান্দি, জগন্নাথপুর-বেগমপুর, জগন্নাথপুর-গোয়ালাবাজারসহ উপজেলা সদরের সাথে প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ন রাস্তাগুলোই যানচলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।
 
উপজেলার পৌর-শহর, রাণীগঞ্জ ইউনিয়ন, চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন, সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়ন, আশারকান্দি ইউনিয়ন ও পাইলগাঁও ইউনিয়নের প্রধান সড়কগুলোরও বেহাল দশা। এমনকি এসব রাস্তাগুলোর মধ্যে ছোট ছোট গর্ত থেকে বড় বড় গর্তে পরিনত হচ্ছে। বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় , উপজেলার ব্যবসার প্রাণ কেন্দ্র জগন্নাথপুর বাজার। এ বাজারের প্রধান প্রধান পয়েন্টগুলোর সড়কের খুবই খারাপ। পয়েন্টগুলোর মধ্যে পৌর পয়েন্ট,হেলি বোর্ড পয়েন্ট,আড়ৎ পয়েন্ট, সিলিমপুর এষ্টেট, মুক্তিযোদ্ধা পয়েন্ট, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার রোড, ইকড়ছই মাদ্রাসা পয়েন্ট ও সুইচ গেইট পয়েন্টের সামনের রাস্তার বেহাল দশা। এসব রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করে। এসব সড়কের পাশে পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও সংস্কারের অভাবে ড্রেইনগুলা ভেঙ্গে গেছে।  বৃষ্টির দিনে এসব ড্রেন দিয়ে পানি প্রবাহিত না হয়ে আটকে থাকে। ফলে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার। এতে রাস্তা চলাচল করার অনুপোযোগি হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর বাজারের ব্যাবসায়ী মকবুল হোসেন বলেন, একটু বৃষ্টি হলে রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। রাস্তায় জলাবদ্ধতার সময় যানচলাচল করার ফলে রাস্তা আরোও ভেঙ্গে যায়। যদি ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নত থাকত তাহলে রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো না এমনকি রাস্তা দিন দিন ভেঙ্গে যেত না। তিনি বিশেষ করে ড্রেনেজ ও প্রধান প্রধান পয়েন্টগুলোর সংস্কারের জোর দাবী জানান।

বাজারে আরেক ব্যাবসায়ী ছালিক আহমদ ডন বলেন, দ্রুততার ভিত্তিতে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সংস্কার করা না হলে আরো বেহাল রুপ নেবে।

এদিকে, জগন্নাথপুর থেকে বিভাগীয় শহর সিলেটের সাথে জগন্নাথপুর-ভবেরবাজার-মীরপুর- উপজেলার সর্বশেষ প্রান্ত কেউনবাড়ী পর্যন্ত উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলের জনসাধারণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়ত করেছেন। প্রায়ই এসব রাস্তায় দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে সাধারন মানুষকে। জগন্নাথপুর-সিলেট সড়কের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। এই রাস্তার জগন্নাথপুর পৌর শহরের বটেরতল, হামজা সেন্টার(হাসপাতাল পয়েন্ট), হাসপাতাল পয়েন্ট ,হবিবপুর গ্রামের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া সিলেট রোডের অধিকাংশ জায়গায় ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মীরপুর ইউনিয়নের রতিয়ারপাড়া থেকে মীরপুর বাজার পর্যন্ত রাস্তার নাজুক দশা। এ রাস্তায় নিত্যদিন শিকার হতে হচ্ছে ছোট বড় সড়ক দুর্ঘটনার। কিছুদিন আগে মীরপুর বাজারের পাশে বয়ে যাওয়া মেঘাখালী নদীর উপরের ব্রীজ পারাপারের সময় ট্রাক আটকা পরে। পরে জগন্নাথপুর থেকে সিলেটের সবধরনের যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ১৫-১৮ ঘন্টা এই রোডের যানচলাচল বিঞ্চিন্ন হয়ে পরেছিল।

অপরদিকে-উপজেলার জগন্নাথপুর-গোয়ালাবাজার ভায়া সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের সড়কের বেহালও দশা। সড়কের অধিকাংশ স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত হয়েছে। এসব গর্তে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের এপ্রোচ উঠে গিয়ে গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচলের অনুপযোগি হয়ে গেছে।

উপজেলার চিলাউরা-হলদিপুর,আশারকান্দি ও পাইলগাঁও ইউনিয়নের প্রধান রাস্তাগুলোর অবস্থা নাজুক। এসব রাস্তা দিয়ে যাত্রীসাধারন যানবাহন ব্যবহার করতে হলে দ্বিগুন ভাড়া গুনতে হয় এমনকি দ্বিগুন ভাড়া দিয়েও যানবাহন এসব রাস্তা দিয়ে যেতে অপারগতা প্রকাশ করে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, জগন্নাথপুর-সিলেট সড়কের পুনঃসংস্কার করার জন্য আবেদন করেছি। জগন্নাথপুর-গোয়ালাবাজার সড়কের কাজ চলছে। যদিও বৃষ্টির জন্য মাঝে কাজ বন্ধ ছিল। জগন্নাথপুর-বেগমপুর সড়কের জন্য প্রায় ৬ কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে। কার্যাদেশের অপেক্ষায় আছি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত