২৭ আগস্ট, ২০১৬ ১৯:১৮
ধর্মপাশা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের দাবি দিনদিন জোরালো হচ্ছে। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা হতে রেললাইন সম্প্রসারণ করে ধর্মপাশায় রেলওয়ে স্টেশন স্থাপনের দাবিতে শনিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে এগারটায় স্থানীয় উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
ফেসবুক ভিত্তিক অনলাইন গ্রুপ 'ধর্মপাশার দাবি' সহযোগিতায় ধর্মপাশা রেলওয়ে স্টেশন বাস্তবায়ন আন্দোলন কমিটি এ কর্মসূচি আয়োজন করে। দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
কয়েকদিন ধরে স্থানীয় শত শত ফেসবুক ইউজার তাঁদের টাইমলাইনে, "আমি ধর্মপাশার বাসিন্দা। আমাদের প্রাণের দাবি মোহনগঞ্জ হতে রেললাইন সম্প্রসারণ করে ধর্মপাশা রেলওয়ে স্টেশন স্থাপন করা হউক" এমন লেখা পোস্ট করেছেন।
এ নিয়ে শুক্রবার বিকেল চারটায় ধর্মপাশা ডিগ্রি কলেজ মাঠে ‘ধর্মপাশার দাবি’র পক্ষ থেকে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা সভা শেষে আপন দেবনাথকে আহ্বায়ক, জাকির তালুকদারকে সদস্য সচিব ও শাকিল আহমেদ মুন, আব্দুল্লাহ আল সানি, শাহরিয়ার আহমেদ ইমন ও রাজেশ দেবনাথকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট 'ধর্মপাশা রেলওয়ে স্টেশন বাস্তবায়ন আন্দোলন কমিটি এর আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির উপদেষ্টারা হলেন, সাংবাদিক এনামুল হক এনি, সাংবাদিক চয়ন কান্তি দাস, অনলাইন এক্টিভিস্ট ইকরামুল হক রাকিব, কবি আনিসুল হক লিখন, শিক্ষক প্রসুনজিৎ বিশ্বাস পলাশ।
দাবি মোদের একটাই, ধর্মপাশায় ট্রেন চাই- এই স্লোগানকে সামনে রেখে ধর্মপাশা রেলওয়ে স্টেশন বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত আজকের মানববন্ধন কর্মসুচিতে সংহতি প্রকাশ করে উদীচী শিল্পীগুষ্টি ধর্মপাশা উপজেলা সংসদ, ধর্মপাশা সাহিত্য পরিষদ, ধর্মপাশা কালচারাল সোসাইটি, ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, পাইকুরাটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফেরদৌসুর রহমান।
বক্তারা বলেন, হাওরাঞ্চলের অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মানুষকে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জেলা শহরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ট্রলার বা লঞ্চ। বর্ষাকালে ধর্মপাশা গোদারাঘাট থেকে লঞ্চ বা ট্রলারে ওঠে যাতায়াতের ব্যবস্থা থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে তা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তখন ধর্মপাশা বাজার থেকে রিকশায় করে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে জয়শ্রী নদীর ঘাট থেকে এবং অর্ধ শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে মহদিপুর ঘাটে গিয়ে ট্রলার বা লঞ্চে ওঠতে হয়। এর পর দীর্ঘ ৭/৮ ঘণ্টার বিরক্তিকর ভ্রমণ। তবে শীতকালে হাওরের পানি শুকিয়ে গেলে মোটরসাইকেলে তিন ঘণ্টায় জেলা শহরে যাওয়া যায়। যারা এভাবে সুনামগঞ্জে যাতায়াত করেন তাদের সময় ও অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি মানসিক যন্ত্রণাও পোহাতে হয়। তাই এ অঞ্চলের মানুষজন বিশেষ কোনো জরুরি দরকার বা দাপ্তরিক কাজ ছাড়া জেলা শহরে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করেন না।
এ অঞ্চলের বেশির ভাগ ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া, আত্মীয়-স্বজন, বিয়ে-শাদী, চিকিৎসাসেবা থেকে শুরু করে সব কিছুই নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও ঢাকা নির্ভর। তাই ধর্মপাশা উপজেলাসহ হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন নিজের প্রয়োজনে মোহনগঞ্জ হয়ে নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও ঢাকায় রেলপথে যাতায়াত করেন।
সীমান্তবর্তী পাহাড়ি ও ভাটি জনপদের মানুষের সহজ যাতায়াত ও মালামাল পরিবহনের লক্ষ্যে ১৯১৯ সালে নেত্রকোনার ৭২ কিলোমিটার রেলপথ তৈরি করা হয়েছিল। এর একটি ৫৫ কিলোমিটার দূরত্বের গৌরীপুর-নেত্রকোনা-মোহনগঞ্জ রেলপথ। অপরটি ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ শ্যামগঞ্জ-জারিয়া রেলপথ। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ, বারহাট্টা, কলমাকান্দা, দূর্গাপুর, পূর্বধলাসহ পার্শ্ববর্তী ধর্মপাশা (মধ্যনগর)-তাহিরপুর উপজেলার হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে আসছে এ রুটে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মোহনগঞ্জ-ঢাকা রুটে ২০১৩ সালের ৩০ জুলাই ‘হাওর এক্সপ্রেস’ নামক একটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রা শুরু হলেও হাওরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ধর্মপাশা পর্যন্ত রেল লাইন সম্প্রসারণের বিষয়টি উপেক্ষিত রয়ে যায়। ফলে ধর্মপাশা উপজেলাসহ হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে ৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাতে গিয়ে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়।
ধর্মপাশাবাসীর প্রাণের দাবি মোহনগঞ্জ হতে ধর্মপাশা পর্যন্ত রেল লাইন সম্প্রসারণ করে রেলওয়ে স্টেশন স্থাপন করার জোর দাবি জানান।
এতে বক্তব্য রাখেন, ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, ফেরদৌসুর রহমান, জোবায়ের পাশা হিমু, তরিকুল ইসলাম পলাশ, চয়ন কান্তি দাস, ইকরামুল হক রাকিব, এনামুল হক এনি, সাজ্জাদুর রহমান সাজু, এস কে সোহান, আপন দেব নাথ, জাকির হোসেন তালুকদার, শাকিল আহমেদ মুন, আব্দুল্লাহ আল সানি প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য