০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০৬
সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের সন্ত্রাস ও জঙ্গীবিরোধী ২০ কিলোমিটার মানববন্ধনে অংশ নিয়েছে উপজেলার স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। মুহিবুর রহমান মানিক এমপি’র আহ্বানে এবং উপজেলা পরিষদ, প্রশাসন ও স্থানীয় আ.লীগের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হলেও দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মানববন্ধনে অংশ নিতে তেমন দেখা যায়নি।
রোববার সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ থেকে বড়কাপন পর্যন্ত সওজ’র সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে ছাত্রীসহ অন্তত ৪০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ১০ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
এক ঘন্টার মানববন্ধন কর্মসূচীতে অংশ নিতে সকাল সাড়ে ৯টা থেকেই বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সড়কে লাইনে দাঁড়াতে শুরু করে। রোদ ও প্রচন্ড গরমের কারনে মানববন্ধনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা অনেকটা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। চরমহল্লা এক ছাত্রীসহ কয়েক জন শিক্ষার্থী মানববন্ধন চলাকালে রাস্তায় গরমে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যেতে দেখা গেছে। দীর্ঘ মানববন্ধনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল না কোন পানীয়-জলের ব্যবস্থা। ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন চলাকালে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে ছিল দীর্ঘ যানজট। ২০ কিলোমিটার সড়ক জোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচীটি খন্ড-খন্ডভাবে হওয়ায় গড়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কে ছিল এ কর্মসূচী।
মানববন্ধন চলাকালে সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ, উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল, দোয়ারাবাজার উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আলী বীর প্রতীক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান, ছাতক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাহাদত লাহিনসহ আ’লীগ নেতৃবৃন্দ ট্রাক, গাড়ী ও মোটরসাইকেল যোগে মানববন্ধন কর্মসূচী পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থী ছাড়াও ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন মাষ্টার, গয়াছ আহমদ, আব্দুল মছব্বির, বিল্লাল আহমদ, মুরাদ হোসেন, সায়েস্তা মিয়া, কাজী আনোয়ার হোসেন আনু, জসীম উদ্দিন মাষ্টার, সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সুন্দর আলী, কদর মিয়া, আফজাল আবেদীন আবুল, আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম, আরজক আলী, ফজর উদ্দন, আখলুছ মিয়া, আ.লীগ নেতা ছানাউর রহমান ছানা, চান মিয়া চৌধুরী, হাবিবুর রহমান মোশরফ, আতাউর রহমান আতা, আফতাব উদ্দিন, আব্দুল আওয়াল, মখলিছুর রহমান, এড. শাহাব উদ্দিন, বাবুল রায়, সাব্বির আহমদ, মানববন্ধন কর্মসূচীতে আ’লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্চাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ, শিক্ষক-শিকিক্ষা, কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিছিন্নভাবে নিজ-নিজ ব্যানারে অংশ গ্রহন করেন। উপজেলার ছাতক ডিগ্রী কলেজ, গোবিন্দগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ, জাউয়াবাজার ডিগ্রী কলেজ, জনতা কলেজ, বুরাইয়া স্কুল এন্ড কলেজ, হাজী আজমত আলী স্কুল এন্ড কলেজ, ঝিগলী স্কুল এন্ড কলেজ, টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ, সাউথ-ওয়েষ্ট সালেহ মআহমদ স্কুল এন্ড কলেজ, ছাতক চন্দ্রনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বহুমূখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, গোবিন্দগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, সিমেন্ট কারখানা উচ্চ বিদ্যালয়, হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়, বাংলাবাজার সামারুন নেছা উচ্চ বিদ্যালয়, পঞ্চগ্রাম হাইস্কুল, মঈনপুর হাইস্কুল, রইছ আলী উচ্চ বিদ্যালয়, শুকুরুন নেছা চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়, সিবিপি উচ্চ বিদ্যালয়, পাইগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়, সমতা উচ্চ বিদ্যালয়, নতুন বাজার উচ্চ বিদ্যালয়, আব্দুল খালিক উচ্চ বিদ্যালয়, ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয়, হাফিজ আব্দুল গনী তালুকদার উচ্চ বিদ্যালয়, আয়াজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়, চরমহল্লা উচ্চ বিদ্যালয়, মলি¬কপুর মডেল হাইস্কুল, এলংগী মডেল হাইস্কুল, মোগলগাঁও নিুমাধ্যমিক বিদ্যালয়, শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়, কামরাঙ্গী হাইস্কুল, কামারগাঁও হাইস্কুল, ঝিগলী উচ্চ বিদ্যালয়, পালপুর উচ্চ বিদ্যালয়, মুনিরগাতি উচ্চ বিদ্যালয়, বড়কাপন নিু মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জামেয়া মুহাম্মদিয়া মুক্তিরগাঁও মাদ্রাসা, গোবিন্দনগর ফজলিয়া মাদ্রাসা, দিঘলী রহমানিয়া মাদ্রাসা, দশঘর মাদ্রাসা, দোলারবাজার মাদ্রাসা, খরিদিচর মাদ্রাসা, পালপুর মাদ্রাসা, গাবুরগাঁও মাদ্রাসা, লাকেশ্বর মাদ্রাসা, শাহ মোজাম্মিল আলী দাখিল মাদ্রাসা, কালারুকা দাখিল মাদ্রাসা, জাউয়া মাদ্রাসা, শেওতরপাড়া মাদ্রাসা, রক্কা মাদ্রাসা, সিংচাপইড় মাদ্রাসা, আশাকাচর মাদ্রাসা, নুরুল¬াপুর মাদ্রাসা, বুরাইয়া মাদ্রাসা, বন্দেরগাঁও মাদ্রাসাসহ উপজেলার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেছে।
মানববন্ধন শেষে ফেরার পথে মঈনপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও শুকুরুন নেছা চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘন্টাব্যাপী সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। সংর্ঘষ শেষ পর্যন্ত এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। এক ঘন্টা সংর্ঘষের অন্তত ৪০ শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত রফিকুল ইসলাম, শামীম আহমদ, জসিম উদ্দিন, ইসমাইল আলী, তোফায়েল আহমদ, তোফা আক্তারসহ অন্তত ১০ শিক্ষার্থীকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম হয়। এসময় আতংকে ছাত্রীরা আহাজারী করতে দেখা গেছে। সংঘর্ষ চলাকালে জালালপুর-দোলারবাজার সড়কে প্রায় এক ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।
আপনার মন্তব্য