০৮ এপ্রিল, ২০১৫ ১৯:৪৫
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্তৃক সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে বাঁশ কল বসিয়ে খাঁস কালেকশনের নামে অবৈধ ভাবে চাঁদা উত্তোলন বন্ধের দাবীতে জৈন্তাপুরে ট্রাক অবরোধ চলছে। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবরোধ করে রাখে ট্রাক শ্রমিকরা। পরে পুলিশ সহায়তায় উদ্ধার হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়া।
জানাযায়- বিগত বৎসরের নভেম্বর মাস হতে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ খালেদুর রহমান খাঁস কালেকশনের নামে নিজস্ব বাহীনি নিয়োগ করে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুর চাংঙ্গীল নামক এলাকায় অবৈধ ভাবে বাঁশকল বসিয়ে ভারত থেকে আমদানীকৃত এলসি পাথর সহ অন্যান্য পাথর থেকে ১টাকা হারে চাঁদা আদায় করে আসছেন।
এরপর থেকে স্থানীয় ট্রাক শ্রমিক, ট্রাক মালিক ও পাথর ব্যবসায়ীরা বাঁশ কল অপসারনের দাবী জানিয়ে আসছেন। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন উপর মহলের যোগ সাজসে আদামানীকৃত সহ সকল প্রকার পাথর থেকে চাঁদা উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় সিলেট জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের নির্দেশে জৈন্তাপুর আঞ্চলিক ট্রাক চালক সমিতির সভাপতি নুরু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রায় দুই শতাধিক ট্রাক চালক শ্রমিক একযোগে অবৈধ বাঁশকলটি ভেঙ্গে ফেলে।
সংবাদ পেয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়া ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজিত ট্রাক শ্রমিকরা তাকে অবরোদ্ধ করে ফেলে। এ সংবাদে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ গোলক চন্দ্র বসাক ও সিনিয়র এস.আই মোঃ আব্দুল মোতালেব অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে শ্রমিকদের শান্ত করে নির্বাহী কর্মকর্তা সহ চাঁদা আদায়কারী কর্মকর্তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। এদিকে ট্রাক অবরোধ সংবাদ পেয়ে তামাবিল চুনাপাথর, পাথর ও কয়লা আমদানী কারক গ্র“পের সভাপতি গোলাম নবী ভূইয়া, যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াছ উদ্দিন লিপু, জাফলং মিল মালিক সমিতির সভাপতি বাবুল বখত, জৈন্তাপুর ট্রাক মালিক সমিতির নেতৃবন্দ, জাফলং ট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়ন ও ট্রাক মালিক শ্রমিক সমিতির নেতৃবৃন্দ আন্দোলনকারী শ্রমিকদের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করেছেন।
এবিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়ার সহিত একাধিক বার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি। এবিষয়ে অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছেন- অবরোধের সংবাদ পেয়ে আমরা ইপজেলঅ নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবরোধকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করি। কিন্তু শ্রমিকরা তাদের যুক্তি সম্পন্ন দাবী নিয়ে আন্দোলনে থাকায় আমরা বাঁধা দিতে পারিনি।
এদিকে আন্দোলনকারীদের সাথে আলাপকালে তারা জানান- বাঁশকল ঘরটি যতক্ষণ পর্যন্ত প্রশাসন সরিয়ে না নিবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। এরির্পোট লেখা পর্যন্ত সিলেট তামাবিল-মহাসড়কের বাঁশ কল অপসারনের জন্য ট্রাক অবরোধ চলছে।
আপনার মন্তব্য