১১ এপ্রিল, ২০১৫ ০১:৫৭
গত কয়েক দিনের শিলাবৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের শিলাবৃষ্টিতে বোরো ফসল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার ৬ উপজেলার ক্ষতির পরিমান সর্বাধিক। এই ৬ উপজেলার ১৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমির বোরো ফসল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিলাবৃষ্টির কারনে এই উপজেলারগুলোতে উৎপাদন ২০ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কৃষি অধিদপ্তর। তবে শিলা বৃষ্টি ও কালবৈশাখি ঝড় অব্যাহত থাকলে বেড়ে যাবে ক্ষতির পরিমান।
সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা যায়, দেশের বোরো ফসলের বৃহৎ অংশই উৎপাদিত হয় হাওর অঞ্চলে এবং সুনামগঞ্জ জেলায়ই রয়েছে সর্বাধিক সংখ্যক হাওর। ফলে হাওরে বোরোর উৎপাদন ব্যাহত হলে সারাদেশেই তার নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত বুধ, শুক্র ও শনিবার সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলে কালবৈশাখি ঝড় আঘাত হানে। এরমধ্যে সুনামগঞ্জের ৬ উপজেলায় ঝড়ের সাথে ব্যাপক শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বোরো ফসল।
সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় এবছর ২৫ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ করা হয়। এরমধ্যে শিলাবৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় ৪ হাজার হেক্টর জমি। দিরাই উপজেলার আবাদকৃত ২২ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয় ৫৩৯০ হেক্টর জমি। ধর্মপাশা উপজেলায় আবাদকৃত ৩০ হাজার ৯০০ হেক্টর জমির মধ্যে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয় ৭৩০ হেক্টর জমি। জগন্নাথপুর উপজেলায় বোরোর আবাদ হয় ২০ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে। শিলাবৃষ্টিতে মারাত্মক আক্রান্ত হয় ৮০ হেক্টর জমি। দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ২২ হাজার ৩৫০ হেক্টরের মধ্যে ২০০ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয় এবং শাল্লা উপজেলায় আবাদকৃত ২২ হাজার হেক্টরের মধ্যে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয় ২ হাজার ৭০০ হেক্টর জমির ফসল।
সুনামগঞ্জের এই ৬ উপজেলায় এবছর ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়। এরমধ্যে শিলাবৃষ্টিতে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়েছে ১৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমি।
শিলাবৃষ্টি বোরো ফসল আক্রান্ত হওয়ায় কি পরিমান ক্ষতি হবে তা এখনো নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধদিপ্তরের কর্মকর্তারা। তবে আক্রান্ত উপজলোগুলোতে বোরোর উৎপাদন ২০ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে ধারনা করছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধদিপ্তর, সিলেটের অতিরিক্ত পরিচলক কৃষিবিদ মো. সাদির উদ্দিন।
তবে শিলাবৃষ্টিতে উৎপাদন কমলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তা প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
সাদির উদ্দিন বলেন, এবছর সিলেট বিভাগে ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫২৯ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যামাত্রা ছিলো। কিন্তু আবাদ হয়েছে ৪ লাখ ৬১ হাজার ৫১৮ হেক্টর জমিতে। অধিক জমিতে আবাদ করায় শিলাবৃষ্টির ক্ষতি সত্ত্বেও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।
এ বছর সিলেট বিভাগে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৭ লক্ষ ৫৫ হাজার ৪৫৩ মেট্রিক টন।
তবে শিলাবৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ও পাহাড়ি ঢল শুরু হলে হাওরের বোরো ফসলের পুরোটাই ক্ষতির মুখে পড়বে বলে জানান সাদির উদ্দিন। এবছর বৃষ্টি আগেভাগে শুরু হওয়ায় ফসল ঘরে তোলার আগেই পাহাড়ি ঢল নামার শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানান তিনি।
আপনার মন্তব্য