তপন কুমার দাস, বড়লেখা

২৯ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৩২

বড়লেখায় হাসপাতালে মধ্যরাতে নারী রোগীকে হয়রানি, থানায় অভিযোগ

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসা সেবা নিয়ে মানুষের নানা অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের “জরুরী” চিকিৎসা এখন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

গত শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা স্বামী কর্তৃক নির্যাতনের শিকার এক মহিলা রোগীকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। হয়রানির বিষয়ে নির্যাতিতা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ও এক সুইপারের নাম উল্লেখ করে থানায় জিডি করেছেন।  

বড়লেখা থানার জিডি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেরামত নগর চা বাগানের ম্যানেজার মারুফ আহমদ তাঁর স্ত্রী দিলরুবা ইয়াছমিনকে শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নির্যাতন করেন। এতে ইয়াছমিন নাকে-মুখে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। ঘটনার পরপরই রক্তাক্তবস্থায় ইয়াছমিন রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানে উপস্থিত সুইপার সেজুল মিয়া তাঁর সাথে দুর্ব্যবহার করে। রক্তাক্ত ইয়াছমিনকে দেখে সুইপার সেজুল মিয়া মশকরা করে বলে এগুলো আসল রক্ত না কি রং? তাঁর কথার সাথে সাথে কর্তব্যরত মেডিক্যাল এ্যাসিসটেন্ট মোবারক হোসেন পলাশও রক্তগুলো আসল না কি নকল বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন। চিকিৎসা না দিয়ে নানারূপ ঠাট্টা মশকরা করতে থাকেন বলে অভিযোগ ওই মহিলার। এরপরে কোন মতে একটি প্রেসক্রিপশন তাঁর হাতে ধরিয়ে দিয়ে এখানে আর চিকিৎসা হবে না বলে জানান চিকিৎসক। হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পর রক্ত বন্ধ না হওয়ায় অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে আবারও হাসপাতালে গেলে ডাক্তার সঞ্জয় সিংহ তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

নির্যাতনের শিকার ইয়াছমিন বলেন, ‘আমি চিকিৎসার জন্য রক্তাক্তবস্থায় হাসপাতালে গেলে পলাশ ডাক্তার ও সুইপার সেজুল আমাকে নিয়ে মশকরা করতে থাকেন। পলাশ ডাক্তারের সাথে আমার স্বামীর ভালো সম্পর্ক থাকায় রক্তাক্ত অবস্থায় আমি হাসপাতালে গেলও তাঁরা আমার চিকিৎসা করতে চায়নি। নানা হয়রানির পর এক চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ব্যবস্থাপত্রে লিখে দেন “রেফার্ড টু এসওএমসিএইচ”।

এ ব্যাপারে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমদ হোসেন বলেন ‘ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত