নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ এপ্রিল, ২০১৫ ১৯:৫৮

সুস্থ-সুন্দর ও সুখী সমাজ গড়ে তুলতে চিত্রশিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম; শাবি ভিসি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডঃ মোঃ আমিনুল হক ভূইয়া বলেছেন, বর্তমান প্রজন্মের শিশুরা বহুমূখী প্রতিভার অধিকারি। অনেকেই তাদের বহুমুখী প্রতিভাকে চিত্রশিল্পের দ্বারা বিকশিত করছে। তারা রং তুলির মাধ্যমে আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্বের চেতনা এবং সমসাময়িক ঘটনাবলি উপস্থাপন করেছে। এটা সত্যিই প্রসংসার দাবী রাখে। বর্তমান শিশুরা তাদের রং তুলি দ্বারা বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাড় করাবে বলে আমি মনে করি। চারুকলা বিষয়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চারুপাঠ চারুবিদ্যালয়ের ৩য় দ্বিবার্ষিক চিত্র প্রদর্শনীর উদ্ভোধন ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

গতকাল শনিবার কেন্দ্রিয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ প্রাঙ্গনে এই চিত্র প্রদর্শনী উদ্ভোধন ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথি আরও বলেন, সিলেট প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। সিলেটে আসলে আমরা প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাই। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই শহরে চারুপাঠের গুরুত্ব অপরিসীম। সিলেটিরা চারুশিল্পের দ্বারা দেশের শিল্প সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। চারুপাঠ চারুবিদ্যালয় শিশুদেরকে যে শিক্ষা দিচ্ছে তা প্রশংসার দাবীদার। একটি সুস্থ-সুন্দর ও সুখী সমাজ গড়ে তুলতে চিত্রশিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম।

চারুপাঠ চারুবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মার্জিয়া হোসাইন পপির সভাপতিত্বে এবং দীপালি দেবের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের শিক্ষক চিত্রশিল্পি অধ্যাপক ডঃ ফরিদা জামান, শিল্পকলা একাডেমী সিলেটের জেলা কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্ত।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্বব্য রাখেন চারুপাঠ চারুবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার দাস। বক্তব্য রাখেন চারুপাঠ চারুবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক নন্দিতা দেব, শাবিপ্রবি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক জয়া।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডঃ ফরিদা জামান বলেন, সংস্কৃতির দিক দিয়ে সিলেট একটি সমৃদ্ধশালী শহর। চারুশিল্প ক্ষেত্রেও সিলেট গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। চারুপাঠ চারুবিদ্যালয় শিশুদের মাঝে চারুশিক্ষা প্রদান করছে। এর মাধ্যমে শিশুদের চিন্তাশক্তি বেড়ে যাচ্ছে। এই শিক্ষার্থীরাই একদিন চারুশিল্প দ্বারা অনেক বড় কিছু অর্জন করবে বলে আমি মনে করি।

অশিত বরণ তার বক্তব্যে বলেন, শিল্পকলার অন্যতম একটি অংশ হচ্ছে চারুশিল্প। চারুশিল্পিরা তাদের রং তুলির মাধ্যমে বাস্তব জীবনের দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেন। শিশুদেরকে সঠিকভাবে চারুশিক্ষা প্রদান করতে হবে। তবেই শিশুরা তাদের মেধাকে সঠিকভাবে বিকাশ করতে পারবে।

সভাপতির বক্তব্যে মার্জিয়া হোসাইন পপি বলেন, চারুপাঠ চারুবিদ্যালয় শিশুদেরকে দক্ষ চারুশিল্পি হিসেবে গড়ে তুলতে যথেষ্ট সচেষ্ট। আগামীতেও যেন আমরা আরও ভালো কিছু করতে পারি সেই জন্য সকলের সহযোগিতা চাই। আজকের আয়োজনে সহযোগিতা করায় তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানান।

উল্লেখ্য, ১৪১ জন শিক্ষার্থীর বিভিন্ন মাধ্যমে আঁকা মোট ২৭৭ টি শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়েছে। ৫জনকে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন পদক ও ১৮ জনকে চারুপাঠ পদক প্রদান করা হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত