০৩ নভেম্বর, ২০১৬ ০২:০৯
সিলেটে কলেজ ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসের উপর হামলার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো চাঞ্চল্যকর এই মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।
গত ৩ অক্টোবর এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে সিলেট সরকারী মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে শাবি ছাত্র বদরুল আলম। বদরুল শাবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক।
খাদিজার উপর হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বদরুলের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিতের দাবি ওঠে সর্বত্র। দেশজুড়ে বিক্ষোভ-প্রতিবাদের মুখে সরকারের উচ্চ মহল থেকেও বদরুলের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিতের আশ্বাস দেওয়া হয়।
তবে একমাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এই মামলার অভিযোগপত্রই দিতে পারেনি পুলিশ।
খাদিজার উপর হামলার পরপরই বদরুলকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন এমসি কলেজের শিক্ষার্থীরা। এরপর আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বদরুল।
আর হামলার পর খাদিজাকে উদ্ধার করে প্রথমে ওসমানী হাসপাতাল ও পরে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১০ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ১৩ অক্টোবর খাদিজার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়। রাখা হয় ২৪ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে। সরকারের পক্ষ থেকে খাদিজার চিকিৎসার ব্যয় বহনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
হামলার পরদিন খাদিজার চাচা বাদী হয়ে নগরীর শাহপরান থানায় বদরুলকে একমাত্র আসামী করে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রুকন উদ্দিন আহমেদ বলেন, পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই মামলাটির তদন্ত করছে। চাঞ্চল্যকর বিবেচনায় একটু সময় নিয়েই তদন্ত করা হচ্ছে। যাতে আসামী পার পেতে না পারে। তবে শীঘ্রই এই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দেওয়া হবে।
আর সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন বলেছেন, আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পুলিশের অভিযোগ পত্র প্রদানে বিলম্ব হলেও বদরুলকে চিরস্থায়ী বহিষ্কার করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে তার কর্মস্থলের স্কুল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, একটি স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ায় বদরুল আর ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত নন।
একমাসেও মামলার অভিযোগপত্র না দেওয়ায় খাদিজার স্বজনদের মধ্যে হতাশা থাকলেও খাদিজার শারীরিক অবস্থা আশান্বিত করছে তাদের। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে এখন অনেকটাই সুস্থ হয়ে ওঠেছেন খাদিজা। তার জীবনাশঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
আপনার মন্তব্য