সিলেটটুডে ডেস্ক

০৩ নভেম্বর, ২০১৬ ২০:২২

আলো জ্বেলে আঁধার রুখার প্রত্যয়

সিলেটে সাম্প্রদায়িকতা হামলার প্রতিবাদে শত হাতে আলোক প্রজ্বলন

"ধ্বংসযজ্ঞে মাটিতে লুটিয়ে পরা বঙ্গবন্ধুর ছবি বলে দেয় অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশকে অন্ধকারে ঢেকে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে । কালীপুজার আনন্দকে আঁধারে ঢেকে দিয়ে ব্রাম্মনবাড়িয়া, মাধবপুর ও ছাতকে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলা এরই অংশ । ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দাঁড়াতে হবে। নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়াতে হবে । হামলার উস্কানীদাতাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মনে জ্বেলে দিতে হবে আস্থার আলো।"

বৃহস্পতিবার সন্ধা ৬টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শত হাতে আলোক প্রজ্বলন কালে সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধ্যে লড়ে যাওয়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করে বক্তারা এসসব কথা বলেন।

সিলেটের বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠন ও ব্যাক্তির উপস্থিতিতে সম্মিলিতভাবে শত আলো প্রজ্বলন করা হয় । মৌলবাদ ও 'সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সাংস্কৃতিক মঞ্চ, সিলেট-এর উদ্যোগে প্রায় ঘন্টাব্যাপী মোমবাতি হাতে নিয়ে ব্রাম্মনবাড়িয়া, মাধবপুর ও ছাতকে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার বিরুদ্ধ্যে প্রতিবাদ জানানো হয়।

মৌলবাদ ও 'সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সাংস্কৃতিক মঞ্চ, সিলেট-এর সমন্বয়ক ও সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেট-এর সভাপতি মিশফাক আহমেদ মিশু আয়োজকদের পক্ষ্য থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, কালীপূজার উৎসবের আলো আঁধারে ঢেকে দিয়েছে ব্রাম্মনবাড়িয়া, মাধবপুর ও ছাতকে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা। এসব ঘটনায় একাধিক পূজামন্ডপ ও মন্দির-আখড়া ভাংচুর হয়েছে। শতাধিক সনাতন ধর্মীয় পরিবারের বসত-বাড়ি ভাংচুর, অগ্নি সংযোগ ও লুটপাটের শিকার হয়েছে। শারিরীক ভাবে নিগৃহীত মানুষের সংখ্যা শতাধিক । এরমধ্যে অনেকেই আহত হয়েছেন । নারী-শিশুসহ নিগৃহীত ও লুটপাটে সর্বস্ব হারানো মানুষগুলোর এই নারকীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার কারন এরা সংখ্যালঘু, এদের পরিচয় এরা সনাতন ধর্মীয়। ব্রাম্মনবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় রসরাজ নামের এক হিন্দু যুবকের ফেইসবুকে দেয়া পোষ্টের সূত্রধরে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখান থেকে সাম্প্রদায়িক উস্কানী দিয়ে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় হামলা চালানো হয়। যার বিরুদ্ধে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ সেই রসরাজ এমন পোষ্টের কথা অস্বীকার করে । স্থানীয় এলাকাবাসী তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করে । অভিযুক্ত ব্যাক্তিকে পুলিশে সোপর্দ করার পরেও নারকীয় উল্লাসে হামলা চালানো হয়। নিমিষে ধ্বংস করা হয় বিভিন্ন পূজামন্ডপ। কালীপূজা বা দেওয়ালীর জন্য আলোকিত উৎসবপ্রাঙ্গণ পরিনত হয় বিভীষিকার অন্ধকারে। একের পর এক বাড়ি ঘর লুট হয়। নারীদের নির্যাতন করা হয় । শিশুরা আতংকে কাঁপতে থাকে । এসব ঘটনাকালে স্থানীয় প্রশাসন নির্লিপ্ত আচরণ করে। যা লুটেরাদের সাহস যোগায়। সরকারের ধামাচাপা মনোভাবে ব্রাম্মনবাড়িয়ার ঘটনা হবিগঞ্জের মাধবপুর এমনকি সুনামগঞ্জের ছাতক পর্যন্ত বিস্তৃত হয় । এই ঘটনায় সারা দেশের বিবেকবান মানুষ ব্যাথিত।

তিনি সকলের পক্ষ্য থেকে হামলার উস্কানীদাতাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানান। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মনে আস্থার আলো জ্বেলে দিতে শুভবোধ সম্পন্ন মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান ।

শত হাতে আলোক প্রজ্বলন কালে সিলেটের বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রবীন রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার আরশ আলী, সিপিবি সিলেট জেলার সাবেক সভাপতি কমরেড বাদল কর, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সিলেট শাখার সভাপতি ইরফানুজ্জামান চৌধুরী, সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেট শাখার সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, বাংলা মিডিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান সাংবাদিক আল আজাদ, পূজা উদ্যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, আবৃত্তিশিল্পী মোকাদ্দেস বাবুল, ডা. সুধাময় মজুমদার, রবীন্দ্র সঙ্গিত শিল্পী রানা কুমার সিনহা, তথ্যচিত্র নির্মাতা নিরঞ্জন দে যাদু, সিপিবি সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সুমন, জাসদ সিলেট জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক  মোঃ কিবরিয়া, নাট্য সংগঠক অরিন্দম দত্ত চন্দন, প্রবাসী সাংস্কৃতিক সংগঠক নাজরা চৌধুরী, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেট-এর সাবেক সভাপতি অনুপ কুমার দেব, সাবেক সহ-সভাপতি খোয়াজ রহিম সবুজ ও সাধারন সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত, নাট্য সংগঠক এনামুল মুনীর ও শামসুল বাসিত শেরো,উদীচী সিলেট শাখার সহ-সভাপতি মুনির হেলাল, অরুপ শ্যাম বাপ্পী, আইডিয়া সিলেট-এর প্রকল্প ব্যাবস্থাপক মো. আমিনুর রহমান, নারীমুক্তি সংসদ এর সভানেত্রী ইন্দ্রানী সেন সম্পা, কবি আবিদ ফায়সাল, সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র দেবাশীষ দেবু, প্রভাষক প্রণবকান্তি দেব, ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট শাখার সাধারন সম্পাদক দীপঙ্কর দাশ গুপ্ত, সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন-এর সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত