নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ নভেম্বর, ২০১৬ ২০:০২

প্রতারণা মামলা : পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণের আবেদন রাগীব আলীর ছেলের

ভূমি মন্ত্রণালয়ের চিঠি জালিয়াতি করে সিলেটের তারাপুর চা বাগান দখলের মামলায় পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণের আবেদন করেছেন রাগীব আলীর ছেলে ও এ মামলার অন্যতম আসামী আবদুল হাই। রবিবার সিলেট মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. সাইফুজ্জামান হিরুর আদালতে এ আবেদন করেন আবদুল হাইয়ের আইনজীবিরা।

এদিকে মামলার নির্ধারিত দিন রবিবারে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলা দায়েরকারী সিলেটের তৎকালীন সহকারী ভূমি কমিশনার এস এম আবদুল কাদের এবং মামলার বাদী ও রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মোশাররফ হোসেন। তাদের সাক্ষ্য গ্রহণের পর আসামিপক্ষ আদালতে পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণের আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে এই মামলায় এখন পর্যন্ত সাক্ষ্য দেওয়া ১০ জন সাক্ষীর পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণের আরজি জানানো হয়। এই মামলায় মোট ১৪ জন সাক্ষী রয়েছেন।

আদালত এ আবেদনের শুনানীর জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য্য করেছেন বলে জানিয়েছেন আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মাহফুজুর রহমান।

আদালত সূ্ত্রে জানা যায়, ১৯১৫ সালে দেবোত্তর হিসেবে ঘোষণা করা তারাপুর চা বাগানের সম্পত্তি ১৯৯০ সালের দিকে জালিয়াতির মাধ্যমে বেদখল করে নেন রাগীব আলী। এ ঘটনার পর ২০০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সংসদীয় স্থায়ী কমিটির নির্দেশে সরকারি নথি জালিয়াতির একটি মামলা দায়ের করেন সিলেটের তৎকালীন সহকারী ভূমি কমিশনার এস এম আবদুল কাদের এবং মামলার বাদী ও রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মোশাররফ হোসেন। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগান পুনরুদ্ধার করে এর সেবায়েতের কাছে ফিরিয়ে দেবার নির্দেশ দেন।

রায়ে দেয়া ১৭ টি নির্দেশনার অংশ হিসেবে পুণরায় তদন্ত করে ১০ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এতে রাগীব আলী, তার ছেলে আবদুল হাই, বাগানের সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্ত, রাগীব আলীর মেয়ে রুজিনা কাদির, মেয়ের জামাই আব্দুল কাদির ও রাগীব আলীর আত্মীয় দেওয়ান মোস্তাক মজিদকে অভিযুক্ত করা হয়।

এ মামলায় সিলেট মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিম গত ১০ আগস্ট সবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে ওইদিনই রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাই পালিয়ে ভারতে চলে যান। প্রায় তিনমাস পর শনিবার দুপুরে ভারতের করিমগঞ্জ থেকে সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করার পথে আবদুল হাইকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। ওইদিন রাতেই তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত