১৭ এপ্রিল, ২০১৫ ১৫:১৫
অনিদ্রায় শরীরে বাসা বেধেছে নানা রোগ। শরীর শুকিয়ে হয়েছে কঙ্কালসার। কথা বলতে গেলে আটকে যায় মুখ। বিছানায় শুয়ে যেন মৃত্যুর প্রহরগুনা। চোখে-মুখে ক্ষোভ আর হতাশার ছাঁপ ছেলের শোকে কাতর ইলিয়াস আলীর মা সূর্যবান বিবি- কথাগুলো বললেন ইলিয়াস আলীর অগ্রজ প্রতিম আওলাদ আলী।
তিনি বলেন- ‘লেখালেখিতো অনেক হয়েছে, কোনো সুফল পাইনি আমরা। শয্যাশায়ী হয়েও মায়ের মনোবাসনা একটাই, প্রিয় সন্তানকে শেষ বারের মতো দেখে যাওয়া।তাকে ফিরে পাওয়া ছাড়া তাদের এখন আর কিছু বলা বা চাওয়ার নেই।’
শুক্রবার এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজের তিন বছর পূর্ণ হলো। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বনানী থেকে মধ্যরাতে চালক আনছার আলীসহ ‘নিখোঁজ’ হয়েছিলেন বিএনপির এই প্রভাবশালী নেতা।
দিন কিংবা মাস নয়, একে একে গড়িয়েছে তিনটি বছর। অপেক্ষার প্রহর এখনো ফুরায়নি।গভীর আত্মবিশ্বাস আর দৃঢ় প্রত্যয়ে এখনো স্বজন ও নেতাকর্মীদের। তবে, এই অপেক্ষার শেষ কোথায় জানেন না স্বজনর ও নেতাকর্মীরা।
ইলিয়াস আলী ‘নিখোঁজ’ হওয়ার তিন বছর অতিবাহিত হতে চললেও এখনো তাকে নিয়ে সিলেটে চলছে তুমুল আলোচনা।তিনি বেঁচে আছেন কিনা? মানুষের মন থেকে এ শংসয় এখনো কাটেনি।
তবে, বিএনপি নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করেন- তাদের প্রাণপ্রিয় নেতা ইলিয়াস এখনো বেঁচে আছেন এবং সরকারের হেফাজতেই আছেন। তাই এম. ইলিয়াস আলীকে ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নেতাকর্মীরা।
ইলিয়াস মুক্তি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘এম. ইলিয়াস আলী সরকারের হেফাজতে আছেন। আমরা আশাবাদি সিলেটবাসীর প্রিয় নেতাকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পাব।
তিনি বলেন, এ দাবিতে ইদানিং প্রতিমাসে কর্মসূচী পালন করে আসছিলাম। কিন্তু পুলিশের নানাভাবে হয়রানীর কারণে কর্মসূচী পালন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তবে নেতাকে ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য দিলদার হোসেন বলেন, ‘এম. ইলিয়াস আলী নিখোঁজের তিন বছর পূর্তিতে প্রতীক অনশন করতে উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দেবেনা তাই কর্মসূচী হিসেবে শুধু মিলাদ মাহফিল করবো।’
এদিকে, সিলেটের পুলিশ প্রশাসন থেকে ‘নিখোঁজ’ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীকে খোঁজা হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা। তিনি বলেন- ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হয়েছেন ঢাকা থেকে। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ এ ব্যাপারে খোঁজ নেবেন।
প্রসঙ্গত: ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে ঢাকার বনানী এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি এম. ইলিয়াস আলী ও তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ী চালক আনসার আলী রহস্য জনক নিখোঁজ হন।
তার সন্ধানের দাবীতে নির্বাচনী এলাকা বিশ্বনাথে হরতালের দ্বিতীয় দিনে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত তিনজন প্রাণ হারান। সংঘর্ষকালে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় উপজেলা পরিষদ স্থপনাসহ সরকারী যানবাহনে।
এ ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা একাধিক মামলায় বিএনপি-জামায়াত ও অংগসংগঠনের আট সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে আসামী করা।এই মামলায় অনেক নেতাকর্মী এখনো কারাগারে রয়েছেন।
আপনার মন্তব্য