তপন কুমার দাস, বড়লেখা

১৭ এপ্রিল, ২০১৫ ১৭:১৮

অপারেশন টেবিলে রোগী রেখে ডাক্তার লাপাত্তা!

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বৃহস্পতিবার সকালে সিজারিয়ান অপারেশনের এক রোগীকে মুমূর্ষু অবস্থায় অপারেশন টেবিলে রেখে গাইনী কনসালটেন্ট প্রায় তিনঘণ্টা হাসপাতাল থেকে উধাও হয়ে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোগীর স্বজনসহ অনেকের অভিযোগ তিনি সরকারী ডিউটি ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখায় ব্যস্ত ছিলেন।   

হাসপাতাল ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার বর্নি গ্রামের জিলাল আহমদের সন্তান সম্ভবা স্ত্রী সুলতানা বেগমের প্রসব ব্যথা উঠে। গত মঙ্গলবার সকাল আটটায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকগন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান ডেলিভারীর সিদ্ধান্ত নেন। সে মোতাবেক সকল প্রস্তুতি নেয়ার পর সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে হঠাৎ গাইনী কনসালটেন্ট ডা. আহমদ হোসেন হাসপাতাল থেকে উদাও হয়ে যান। প্রায় তিন ঘন্টা তাকে খোঁজাখুজি করে না পাওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীর আত্মীয় স্বজনের মধ্যে উদ্বেগ উত্তেজনা দেখা দেয়।

রোগীর স্বজনেরা অভিযোগ করেন গাইনী চিকিৎসক ডা. আহমদ হোসেন ফোন বন্ধ করে সরকারী ডিউটি ফাঁকি দিয়ে মুমূর্ষু রোগীকে ফেলে রেখে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখায় ব্যস্ত ছিলেন।   
এ ব্যাপারে গাইনী চিকিৎসক ডা. আহমদ হোসেনের মোবাইল ফোনে শুক্রবার কথা বললে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, রোগী ২দিন থেকে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। সকালে আমি নিজেই অপারশনের সিদ্ধান্ত নেই। আমি আমার ব্যাক্তিগত কাজে বাইরে যাই।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কমল রতন সাহা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, সিজার অফারেশনের সকল প্রস্তুতি থাকা সত্বেও গাইনী চিকিৎসক ডা. আহমদ হোসেন হাসপাতাল থেকে হঠাৎ উদাও হওয়ায় তাকে বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এ ব্যাপারে তাকে শোকোজ করা হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত