আবুল হোসাইন,দিরাই

১৮ এপ্রিল, ২০১৫ ১৮:২৯

দিরাইয়ে বজ্রপাতে নিহত ৪ কৃষক পরিবারের শোকের মাতম

দিরাইয়ে বিভিন্ন হাওরে শুক্রবার বিকেলে বজ্রপাতে নিহত চার পরিবারে শোকের মাতম চলছে। একমাত্র ছেলে হারা মায়ের কান্না, স্বামী হারা স্ত্রীর আর্তনাদ, রোজগারের সঙ্গী পুত্র হারা পিতার আহাজারি যেন পুরো এলাকায় শোকাবহ অবস্থা বিরাজ করছে। স্বজন হারা শোকের পাশাপাশি আগামীতে পরিবারের লোকদের বেঁচে থাকায় নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

উপার্জন কারী লোকদের হঠাৎ মৃত্যুতে বৈশাখে সোনালী ধান তুলার আনন্দ বেদনায় পরিণত হয়েছে একসকল পরিবারে। সরে জমিন গতকাল দিরাই পৌর সদরে ভরার গাঁও গ্রামে নিহত জমসেদ আলীর বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায় করুন দৃশ্য। ঠেলাগাড়ি চালক জমসেদ আলী বৈশাখ মাসে বেশী টাকার আয়ের জন্য একমাসের জন্য গৃহস্থের ঘরে চাকুরী নেয়। শুক্রবার গৃহস্থের মাড়াইকরা ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত থাকার সময় আকস্মিক কাল বৈশাখী ঝড়ের সাথে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। জমসেদ আলী মৃত্যুর খবরে পরিবার ও স্বজনদের কান্নায় পুরো গ্রাম জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।

সাকিতপুরে নিহত মিলাদ পেটের তাগিদে পিতার সাথে বাড়ী ছেড়ে চলে এসেছেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থেকে মাছ ধরে পরিবারের লোকজনের জীবিকা নির্বাহ  করার জন্য হাওরে ধান টাকা শুরু হলে বাপ-ছেলে বেশী রোজগারের আশায় শুক্রবারে প্রথম ধান কাটতে মাঠে যায়। কিন্তু বিধিবাম  বজ্রপাতে ধান কাটাবস্থায়ই নিহত হয় মিলাদ। এদিকে চোখের সামনে হঠাৎ ছেলের মৃত্যু কোন ভাবেই মেনে নিতে পারেননি পিতা কনা মিয়া। রোজগারের সঙ্গী ছেলে হারানো বেদনায় বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। ছয়হাড়া নগদীপুর গ্রামে নিহত শামসুলের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছেলেকে হারিয়ে মা কাছামালা বিবি বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন।

একমাত্র পুত্রের মৃত্যুতে মায়ের কান্নায় যেন আকাশ বাতাশ ভারি হয়ে উঠছে। এ কান্না থামানোর যেন কারো কোন ভাষা নেই। যার দেখতে যায় সবাই হয় বাকযুদ্ধ। একই দিনে বজ্র পাতে চার জনের মৃত্যুতে সারা উপজেলায় শোকাবহ অবস্থায় বিরাজ করছে। নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে যেন আকাশ বাতাস ভারি হয়ে আসছে। নিহত ৪টি পরিবারই অতি দরিদ্র হওয়ায় তাদের পরিবারের ভরন পোষণে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। দিরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদার বলেন, নিহত দিনমজুর জমসেদের বাড়ীতে গিয়ে দেখেছি পরিবারের লোকদের আহাজারি খুবই মর্মান্তিক। নিহতদের পরিবারের লোকদের দ্রুত সরকারী সহায়তা প্রদান করা প্রয়োজন।
 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত