সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

২০ এপ্রিল, ২০১৫ ১৯:৫৭

শিক্ষকের বদলি ঠেকাতে ছাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হলো রাস্তায়

এক শিক্ষকের বদলি ঠেকাতে সুনামগঞ্জ সরকারি সতীশচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের রাস্তায় আন্দোলনে নামানো হয়েছে।বদলির আদেশ হওয়া শিক্ষক বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের প্রিয়ভাজন হওয়ায় ছাত্রীদের আন্দোলনে নামানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে শহরের ব্যস্ত সড়ক হোসেন বখত চত্বর এলাকায় তাদের দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। পরে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এসে তাদের বুঝিয়ে স্কুলে ফিরিয়ে দেন।

জানা যায়, সম্প্রতি সিলেট উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সরকারি সতীশচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের জামায়াত সমর্থক গণিতের সহকারি শিক্ষক মোঃ আমিনুল ইসলামকে জগন্নাথপুরে বদলি করে দেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুর রহিমের ঘনিষ্ট সহচর এই শিক্ষক বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের কাছে জনপ্রিয়। বদলির খবর বিদ্যালয়ে এসে পৌঁছলে তীব্র প্রতিক্রয়া দেখান প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুর রহিম। নানাভাবে বদলি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত সোমবার ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে আসলে তিনি তাদের প্ররোচিত করে রাজপথে নামিয়ে দেন।

শহরের ব্যস্ত সড়কে ৪-৫ শতাধিক ছাত্রী তীব্র গরমের মধ্যে রাস্তায় নেমে এক ঘন্টা বিক্ষোভ করে। বেলা পোনে ২টায় গিয়ে দেখা যায় মানববন্ধনে দাঁড়ানো ছাত্রীদের সঙ্গে তিনি কানে কানে কথা বলছেন। দাবি জোরালো করতে প্রাক্তন ছাত্রীদেরও ডেকে আনা হয় স্কুলে।

এদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সোমবার জামায়াত নেতাদের নেতৃত্বে শিক্ষক আমিনুল ইসলামের বদলি ঠেকাতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিক বদলিকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে রাস্তায় ছাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ায় অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ছাত্রী জানান, স্কুলে আসার পর হেড স্যার আমাদের বলেন, তোমাদের প্রিয় আমিনুল স্যারকে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। আমি তার বদলি আটকাতে পারিনি। তোমরা পারলে কিচ্ছু করো। স্যারের এই আবেগমাখা কথা শোনে আমরা স্থির থাকতে পারিনি। আমরা স্যারের বদলি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছি।

৮ষ্টম শ্রেনীর এক ছাত্রির পিতা মইনুল হোসেন জানান, এভাবে রাস্তায় নামিয়ে শিক্ষকের বদলি ঠেকানোর মধ্যে কিন্তু আছে। আমরা এর সুষ্ঠ তদন্ত চাই।

বিদ্যালয়ের দশমশ্রেণির ছাত্রী নাফিসা হক মিম, সদিয়া আহমেদ সাবা ও প্রীতি রায় বলেন, আমিনুল স্যার আমাদের প্রিয় স্যার। স্যারের বদলি বাতিলের জন্য আমরা রাস্তা অবরোধ করে মানববন্ধন করেছি। তার হঠাৎ বদলি আমরা মেনে নিতে পারিনি। আমাদের স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এই বদলিতে দুঃখ পেয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুর রহিম বলেন, উর্ধতন কর্তৃপক্ষ আমিনুল ইসলামের বদলি করেছে। ছাত্রীরা তার বদলির জন্য রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছে। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত