নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ এপ্রিল, ২০১৫ ১৭:২০

বৃষ্টিতে চা শিল্পে স্বস্তি, গত বছরের উৎপাদন ঘাটতি পুষিয়ে নেয়ার আশা

টানা বর্ষণে ডুবে যাচ্ছে ফসল, নষ্ট হচ্ছে বোরো ধান, ভেঙ্গে যাচ্ছে ঘরবাড়ি- বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকেই সংবাদ মাধ্যম সূত্র জানা যাচ্ছে এসব সংবাদ। এবং প্রায় প্রতিদিনই বজ্রপাতে মারা যাচ্ছে মানুষ। তবে ভিন্ন চিত্র চা বাগানগুলোতে। চা বাগানে বৃষ্টি এসেছে আশীর্বাদ হয়ে। উৎপাদনের বার্তা নিয়ে। বহু প্রতীক্ষা শেষে এসেছে কাঙ্থিত বৃষ্টি।

বৈরী আবহাওয়ায় গত বছর দেশে চা উত্পাদনের লক্ষ্য পূরণ হয়নি। মান ভালো না হওয়ায় নিলামে চায়ের দামও ছিল কম। মার্চে শুরু হওয়া চলতি চা মৌসুমের শুরুটাও ছিল শঙ্কার। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় গত মৌসুমের মতো বৈরী পরিস্থিতির আশঙ্কা করছিলেন চা শিল্পসংশ্লিষ্টরা।

তবে মার্চের শেষ দিকে বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে চা শিল্পে। চলতি মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় আগের মৌসুমের উত্পাদন ঘাটতি পুষিয়ে নেয়ার আশা করেছেন বাগান মালিকরা।

বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে দেশে চা উত্পাদন হয় ৬৬ দশমিক ২৬ মিলিয়ন কেজি। গত বছর বৈরী আবহাওয়ায় উত্পাদন কমে হয় ৬৫ দশমিক ৪ মিলিয়ন কেজি। ২০১৫ সালে উত্পাদন লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৭০ মিলিয়ন কেজি।

সিলেট আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত সিলেটে ৩৮৩ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় চা উত্পাদকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে উত্পাদন লক্ষ্য পূরণে আরো বৃষ্টি প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তারা।

সরেজমিন সিলেট ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টিতে সজীব হতে শুরু করেছে চায়ের মরা গাছগুলো। গাছে গাছে গজাচ্ছে সবুজ কুঁড়ি। প্রুনিং করা মরা গাছে আবার চারা গজাতে শুরু করেছে।

চা সংসদের সিলেট ভ্যালির সভাপতি নোমান হায়দার চৌধুরী বলেন, এ মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। এখন তো সবে মৌসুম শুরু হয়েছে। বছরজুড়ে এ রকম বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ভালো উত্পাদন পাওয়া যাবে।

বাগান মালিক ও ব্যবস্থাপক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে টানা পাঁচ-ছয় মাস কোনো বৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘ খরায় লাল মাকড়সার আক্রমণসহ চা গাছে নানা রোগবালাই দেখা দেয়। সূর্যের তাপে লাল হয়ে ঝলসে যায় চায়ের কুঁড়ি। প্রুনিং করা গাছ ও চারা গাছ মরে যায়।

আর্দ্রতার কারণে সবুজ পাতাগুলো লালচে হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সম্প্রসারিত নতুন চা চাষ। ফলে গত বছর উত্পাদনও হ্রাস পায়।

এ মৌসুম শুরুর কয়েক দিন বৃষ্টির দেখা না মিললেও মার্চের শেষ দিকে শুরু হয় বৃষ্টি। মৌলভীবাজারের কয়েকজন বাগান ব্যবস্থাপক জানান, এপ্রিলের প্রথম পাঁচদিন বিভিন্ন বাগানে বৃষ্টি হয়েছে গড়ে আড়াই থেকে সাড়ে তিন ইঞ্চি। চলতি মাসে আরো বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের নাহার চা বাগানের ব্যবস্থাপক পীযূষ ভট্টাচার্য্য বলেন, এ বছর বাগানের উত্পাদন লক্ষ্য দেড় লাখ কেজি চা। মার্চের শেষ দিকে বৃষ্টিপাত হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে উত্পাদন লক্ষ্য সহজেই পূরণ হবে।

সিলেটের শ্রীপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক মনসুর আহমদ বলেন, এখানকার বেশির ভাগ বাগানেরই সেচ ব্যবস্থা ভালো নয়। ফলে উত্পাদন পুরোপুরি প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। বৃষ্টিপাত কম হলেই উত্পাদন কমে যায়। তিনি বাগানগুলোয় সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ প্রযুক্তিগত উন্নয়নের প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের মহাব্যবস্থাপক ও জুড়ী ভ্যালি ক্লাবের চেয়ারম্যান শাহজাহান আকন্দ জানান, চলতি সপ্তাহে বাগানগুলোয় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা চা উত্পাদনের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। গাছে পরিপূর্ণ কুঁড়ি আসতে দেড়-দুই মাস সময় লাগে। এপ্রিলের শেষ ও মের প্রথম সপ্তাহে কিছুটা খরা দেখা দেয়।

যদি এ সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়, তবে বাগানের পরিস্থিতি আরো ভালো হবে। তবে চা উত্পাদন লক্ষ্য পূরণে ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুকূল আবহাওয়া প্রয়োজন। প্রতি মাসেই দরকার অল্প-বিস্তর বৃষ্টি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত