২২ এপ্রিল, ২০১৫ ১১:৪১
ফাইল ছবি
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টায় প্রবল কালবৈশাখী ঝড়ে লাউয়াছড়া উদ্যান এলাকায় ব্যাপকহারে গাছ ভেঙ্গে পড়ে সিলেটের সাথে সারা দেশের রেল যোগাযোগ ৬ ঘন্টা যাবত বন্ধ হয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে ও তার ছিড়ে ৪র্থ দফা লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। ভারি বর্ষনে উপজেলার নিম্নাঞ্চলসহ পাকা ও আধাপাকা উঠতি প্রায় ৩শ’ হেক্টর বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় বেশকিছু ঘর ও হাজার হাজার বিধ্বস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশন মাস্টার মো. কবির জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে লাউয়াছড়া উদ্যান এলাকায় রেলপথে প্রায় শতাধিক গাছ ভেঙ্গে পড়ে। ফলে রাত আড়াইটা থেকে শ্রীমঙ্গল ষ্টেশনে সিলেটগামী উদয়ন, উপবন ও সিলেট থেকে ছেড়ে আসা কালনী, জালালাবাদ ও কুশিয়ারা ট্রেন লংলা, শমশেরনগর ষ্টেশনে আটকা পড়ে। রেল পথের উপর ভেঙ্গে পড়া গাছ সরিয়ে বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
এদিকে প্রচন্ড বেগে কালবৈশাখী ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে ৪র্থ বারের মতো বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে ও বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনালের ডিজিএম প্রকৌশলী হাসনাত হাসান এ সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যানদের সাথে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতেও শ্রমিক লাগিয়ে বিদ্যুৎ লাইনের উপর ভেঙ্গে পড়া গাছ ও মেরামত কাজ সম্পন্ন হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে দু’দিনের ভারী বর্ষণে উপজেলার ইসলামপুর, পতনউষার ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের পাকা ও আধাপাকা উঠতি প্রায় ৩শ’ হেক্টর বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। চা বাগান সহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় অর্ধ শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত ও কয়েক হাজার গাছ ভেঙ্গে পড়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকতা মো. শামছুদ্দীন আহমদ সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রায় শতাধিক হেক্টর তলিয়ে গেছে। বিকাল পর্যন্ত নিম্নাঞ্চলের পতনঊষারে পানি বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও বলেন, লাঘাটা নদীর ঝোপঝাড় সংস্কার করা হলে নিম্নাঞ্চলে দ্রুত পানি নিষ্কাষন হয়ে যাবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের শ্রীমঙ্গলস্থ কার্যালয়ের সিনিয়র পর্যবেক্ষক হারুন-অর-রশীদ জানান, মঙ্গলবার রাতে কয়েক ঘন্টায় ৯৬ মি:লি: বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
আপনার মন্তব্য