নবীগঞ্জ প্রতিনিধি

০২ জানুয়ারি, ২০১৭ ১৭:৪৪

নবীগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগে সরেজমিনে তদন্ত

নবীগঞ্জের আউশকান্দি হীরাগঞ্জ বাজারে ভূমি খেকো বাহিনীর কবল থেকে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে দখলকৃত ভিটে উদ্ধারে বাজার প্রতিষ্ঠাকারীর উত্তরাধিকারীগণ হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবরে দুর্বৃত্ত ও নবীগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার (২ জানুয়ারি) সরেজমিনে তদন্ত করেন হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের উত্তর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রাসেলুর রহমান। এই আলোচিত ঘটনায় আউশকান্দি তথা উপজেলার সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগটি দায়ের করেন উপজেলার আউশকান্দি হীরাগঞ্জ বাজার প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত সোনা মিয়া চৌধুরীর নাতি যুক্তরাজ্য প্রবাসী শামীম আহমদ চৌধুরী। তিনি ২০১৬ সালের ২১ নভেম্বর হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ দায়ের করে তিনি করেন। তিন সাংবাদিকদের জানান, মিঠাপুর মৌজাধীন আউশকান্দি হীরাগঞ্জ বাজারস্থ তাদের মালিকানাধীন ভিটের প্রায় ৬শতক ভূমি দলিল জাল জালিয়াতির মাধ্যমে প্রভাব কাটিয়ে একই এলাকার প্রভাবশালী একদল লোক জোরপূর্বক ভূমি দখল করে ঘর নির্মাণ করে ব্যবসা বাণিজ্য করে আসছে। নবীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল বাতেন খাঁনের সহায়তায় বিজ্ঞ আদালতের ১৪৪ দ্বারা নির্দেশ অমান্য করে পেশীশক্তির প্রভাব বিস্তার করছে।

এছাড়াও গুরুতর আরো অনেক অভিযোগ তুলে ধরেন শামীম চৌধুরী। বিশেষ করে নবীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল বাতেন খাঁন বাদীর মাতা রাজিয়া খানমকে ভয় ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন এবং অভিযোগকারীর পিতা মৃত শফিকুল হক চৌধুরীর নামীয় আনরেজিষ্ট্রারীকৃত মূল দলিল ও বাংলাদেশী পাসপোর্ট থানায় ডেকে নিয়ে তা হাতিয়ে নেন থানার ওসি, যা এখনো ফেরত দেন নি। এই পাসপোর্ট ও শামীম চৌধুরীর পিতার দলিল হাতিয়ে নিয়ে ওসি আব্দুল বাতেন খাঁন আবারো ভয় ভীতি ও অন্যান্য মামলার হুমকি দেখিয়ে আবারো ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। টাকা না দিলে শামীম চৌধুরীকে যুক্তরাজ্য যেতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুমকি দিয়েছিলেন মর্মে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় হবিগঞ্জ উত্তর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বেশী বক্তব্য দেওয়া যাবে না। তবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

অপরদিকে, অভিযোগের প্রধান সাক্ষী আউশকান্দি হীরাগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহান চৌধুরী বলেন, প্রবাসীর সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রতিপক্ষ আমাদের পরিবার ও গ্রামের নিরপরাধ লোকজনের উপর নবীগঞ্জ থানার ওসির আব্দুল বাতেন খাঁনের যোগসাজশে হয়রানী মূলক একাধিক মামলা আদালতে করা হয়েছে। আমার নিরাপত্তার জন্য নবীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরী করতে গেলে আমার জিডি এন্ট্রি তিনি নেন নি। উল্টো আমাকে একাধিক মামলার হুমকি দেন। সাধারণ নাগরিক হিসাবে আমার অধিকার থাকলেও তিনি বারবার টাকার জন্য আমাদের হুমকি দেন এবং ভূমিখেকো দুর্বৃত্তদের কবলে থাকা প্রবাসীর সম্পদের ব্যাপারে নাক না গলানোর জন্য ও সাক্ষী না দেওয়ার জন্য আমার সাথে খারাপ আচরণ করেন ওসি আব্দুল বাতেন খাঁন।

উল্লেখ্য, এই ভূমি উদ্ধারের জন্য হবিগঞ্জ আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এমন কি বিজ্ঞ আদালত এর ১৪৪ ধারা নির্দেশ মোতাবেক শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নবীগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দিলেও উল্টো আসামী পক্ষের লোকজনের সাথে আঁতাত করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তা অমান্য করে জায়গা দখল করতে ভূমি খেকোদের সহায়তা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে তদন্তকালে অভিযোগের সাক্ষী সহ বাজার ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও উৎসুক জনতারা ভিড় করেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত