০২ জানুয়ারি, ২০১৭ ১৯:০৬
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে সরিষা ক্ষেতে শুরু হয়েছে আধুনিক পদ্ধতিতে মৌ চাষ। স্থানীয় মুসলিম নগর হাওরে সরিষা আবাদের পাশাপাশি শুরু হওয়া মৌ-চাষ করে মধু সংগ্রহ চলছে। এতে করে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সরিষা ক্ষেতে মৌ চাষে বাণিজ্যিক ভাবে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে।
সোমবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে মুসলিম নগর হাওরে সরিষার সাথে মৌ-চাষের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ বিষয়ক মাঠ দিবস ও কৃষক সমাবেশ করেছেন স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
মুসলিমনগর আইপিএম ক্লাব ও কৃষি সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও উপজেলা কৃষি অফিসের উপ সহকারী কর্মকর্তা জীবন কৃষ্ণ রায়ের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষ্ণ চন্দ্র হোর।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল হাসেম, ডক্টর মামুনুর রশিদ, সিলেট অঞ্চল শস্য চাষ মনিটরিং কর্মকর্তা ফরহাদ মিয়া, গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান, গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন, ইংরেজি জাতীয় দৈনিক ডেইলি স্টারের সিলেটের স্টাফ ফটো সাংবাদিক শেখ নাসির, ইউপি সদস্য আব্দুল কাদির, রেজিয়া বেগম, উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মফিজ উদ্দিন, মোয়াজ্জেম হোসেন, হোসনা আক্তার, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড জাফলং শাখার আহ্বায়ক আবুল খায়ের প্রমুখ।
কৃষকরা জানান, আমন কাটার পর পতিত জমিতে চাষ করা হয় সরিষা। সরিষা ক্ষেতে মৌ-চাষ করে বাড়তি আয়ের সম্ভাবনা দেখছেন তারা।
গোয়াইনঘাটের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান বলেন, সরিষা ক্ষেতের আইলে মৌ-চাষ বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে কৃষি অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। মৌ মাছির মাধ্যমে পরাগায়নের ফলে সরিষার দানা পুষ্ট হয়। এতে ফলন বেশ ভালো হয়। সরিষা আবাদের পাশাপাশি মৌ-চাষ কৃষকদের বাড়তি আয়ের সম্ভাবনার রয়েছে।
মৌ চাষি নিয়ামুল হক জানান, বিসিক থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি মৌ-চাষ শুরু করেছেন। বর্তমানে তিনি ৫৬টি মৌ-বাক্স স্থাপন করে প্রতি বাক্স থেকে সপ্তাহে দুইবার প্রায় ২/৩ কেজি করে মধু সংগ্রহ করতে পারছেন। প্রতি কেজি মধু বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়। এতে করে অল্প পুঁজি বিনিয়োগের মাধ্যমে মৌ চাষ করে ভালো আয় করার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
আপনার মন্তব্য