বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি

০৪ জানুয়ারি, ২০১৭ ১৯:৫২

বিয়ানীবাজারে কাঁচাবাজার স্থানান্তর নিয়ে বিপাকে পৌর প্রশাসন

বিয়ানীবাজার পৌর শহরের একমাত্র কাঁচাবাজার স্থানান্তর নিয়ে বিপাকে পড়েছে প্রশাসন। সিলেট-বারইগ্রাম প্রধান সড়কের উপর কলেজ রোড মোড়ে অবস্থিত বাজারটি অস্থায়ীভাবে পরিচালিত হলেও এখানকার ব্যবসায়ীরা এখন এই জায়গা ছাড়তে চান না। এ নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসনের কার্যালয়সহ বিভিন্ন দফতরে চিঠি চালাচালি অব্যাহত রয়েছে।

যদিও বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. আসাদুজ্জামান জানান, ‘কাঁচাবাজার উচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছে। কিছু বিধিবিধান মেনে অবৈধ দখল উচ্ছেদে সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দেয়া হবে।’

জানা যায়, ২০১৫ সালের মার্চে বিয়ানীবাজার পৌরসভার তত্ত্বাবধানে পুরাতন কাঁচাবাজার (মাছ ও তরকারী) আধুনিকভাবে নির্মাণ করে ‘পৌর কিচেন মার্কেট’ স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু মার্কেটের নির্মাণ কাজ শুরু করতে গেলেই বাঁধে বিপত্তি। কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা আপত্তি জানিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়। একপর্যায়ে ব্যবসায়ী ও পৌর কর্তৃপক্ষের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সৃষ্ট উত্তেজনা কমাতে উপজেলা প্রশাসন তখন কঠোর মনোভাব গ্রহণ করে। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ এবং উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে কাঁচাবাজারটি অস্থায়ীভাবে প্রধান সড়কে স্থাপন করা হয়। এতে পুরো পৌর শহর হয়ে পড়ে নোংরা-আবর্জনাময়।

পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে নির্মিতব্য ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে এ পর্যন্ত ২ কোটি টাকার বেশী কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান পৌর প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, কিচেন মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ডে মাছ-সবজি ব্যবসায়ীদের জন্য ৮০টি এবং অন্যান্য তলায় আরো ৮০টি দোকান কোঠা নির্মাণ করা হয়েছে। এসব দোকান কোঠা যথাযথ প্রক্রিয়ায় সরকারের রাজস্ব প্রাপ্তি সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের কাছে বন্দোবস্তও প্রদান করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে মার্কেটের নির্মাণ কাজের বেশীরভাগ অংশ শেষ করা হলেও এখনো পর্যন্ত মার্কেটটি চালু করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা কিচেন মার্কেটে স্থানান্তরিত হতে চান না। তাদের যুক্তি, আন্ডারগ্রাউন্ডে তাদের মালামাল পঁচে নষ্ট হয়ে যাবে। সেখানে ক্রেতাদের নানা অসুবিধার কারণে বিকিকিনি কমে যাবে।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শাহজাহান আহমদ বলেন, আমাদের জন্য যে জায়গা বরাদ্দ করা হয়েছে, সেখানকার প্রবেশপথের গেইটের উপরিভাগ অনেক ছোট। তাছাড়া অন্ধকার এবং ঘিঞ্জি পরিবেশে ব্যবসা করা কঠিন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাছ ব্যবসায়ী জানান, প্রশাসন তাদের উচ্ছেদ করলে তারা আব্দুল্লাহপুর এলাকায় চলে যাবেন। তবুও তারা কিচেন মার্কেটে যাবেন না।

এদিকে পৌর প্রশাসক তফজ্জুল হোসেন জানান, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কাঁচাবাজার উচ্ছেদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উচ্ছেদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে নির্দেশ দিয়েছেন। অচিরেই হয়তো উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, কাঁচাবাজার স্থানান্তর নিয়ে একটি মহল রাজনীতি করছে। মূলত তাদের এই হীনমানসিকতার কারণে পৌরশহরের সৌন্দর্য ম্লান হচ্ছে। পৌরবাসীর সুবিধার কথা বিবেচনা করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্থানান্তর হতে অনুরোধ জানান তিনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত