সৌরভ আদিত্য, শ্রীমঙ্গল

০৫ জানুয়ারি, ২০১৭ ১৭:৪৩

ঝুঁকিপূর্ণ সিলেট-আখাউড়া রেল লাইন, চুরি হচ্ছে ক্লিপ-হুক

বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট-আখাউড়া রেল লাইন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রেলপথ থেকে নিয়মিত চুরি হচ্ছে ক্লিপ-হুক।

রেল লাইনের সাথে সংযুক্ত ক্লিপ-হুক চুরির ফলে দুর্বল হয়ে পড়ছে রেল লাইন। সেকশনের রেলসেতু ও কালভার্ট সমূহের উপর জীনশীর্ণ কাঠের স্লিপারের সাথে পেরেক দিয়ে বাঁশের ফালি স্থাপন করা হয়েছে। ফলে ট্রেন চলাচলের সময় যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিন কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে রেলপথের পাথর ছিটকে যাচ্ছে। রেলপথে স্লিপারসমূহে নাট-বল্টু দিয়ে রেল লাইন আটকানো থাকার কথা থাকলেও বিভিন্ন স্থানে ক্লিপ, নাট-বল্টু নেই। রেলপথ থেকে এসব যন্ত্রাংশ চুরি হচ্ছে। ভানুগাছ, শমসেরনগর, টিলাগাঁও স্টেশনের মাঝখানে অসংখ্য স্থানে ক্লিপ-হুক নেই। দু’লাইনের জোড়া দেয়া স্থানেও ক্লিপ চুরি হয়ে গেছে। দিনের পর দিন ক্লিপ-হুক, নাট-বল্টু, ফিশপ্লেট চুরি হয়ে যাওয়ায় সেকশনটি অধিকতর ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

চুরি যাওয়া এসব যন্ত্রাংশ দ্রুত লাগানোর নিয়ম থাকলেও বছরের পর বছর তা লাগানো হচ্ছে না। ফলে এই সেকশন দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ কি.মি. বেগে প্রতিদিন যাত্রীবাহী আন্ত:নগর ও লোকাল মিলিয়ে ২০টি ট্রেন ঝুঁকি নিয়েই আপ-ডাউন করছে। সাথে থাকছে দু’একটি মালবাহী ট্রেনও। অপরদিকে সেকশনের রেলসেতু ও কালভার্ট সমূহের ৩০-৪০ বছরের পুরনো কাঠের স্লিপারের অধিকাংশ বিনষ্ট হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে রেলওয়ের শ্রীমঙ্গলস্থ ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী আলী আজম বলেন, ব্রিজ ও কালভার্ট সমূহে কাঠের স্লিপার জায়গা মতো না থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থেই পেরেক দিয়ে বাঁশের টানা দেয়া হয়েছে। চুরি হয়ে যাওয়া স্থানে হুক-ক্লিপ লাগানো হচ্ছে। তাছাড়া পুরো রেলপথে ১৫ থেকে ৩০ দিন অন্তর প্রকৌশলীরা পর্যবেক্ষণ করছেন। রেলপথ ঠিক রাখতে যথাসম্ভব চেষ্টার কোনও ত্রুটি হচ্ছে না এবং কোথাও ঝুঁকিপূর্ণ নেই বলে তিনি দাবি করেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত