২৩ এপ্রিল, ২০১৫ ২১:০১
ফাইল ছবি
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে শ্রমিক সংকটের কারনে হাওরের পাকা বোর ধান কাটার দুশ্চিন্তায় কৃষকরা নিদ্রাহিন সময় কাটাচ্ছেন। এমন সময় মরার ওপর খাড়ার ঘা দেখা দিয়েছে বজ্রপাত আতঙ্ক আর জেলা প্রশাসন থেকে জারি করা বন্যা শতর্কবার্তা। আবহাওয়া অধিদপ্তর চলতি সপ্তাহে জেলার হাওরাঞ্চলে বন্যার পূর্বাভাস ঘোষণায় বন্যাঝূকিতে রয়েছে হাওরের প্রায় ২ হাজার ৫০৭ কোটি টাকার বোর ফসল। চলতি মাসেই জেলার বিভিন্ন হাওরে বজ্রপাতে অন্তত ১৫ জন মারা গেছে তাই জেলার হাওর থেকে হাওরের বিস্তৃত ক্ষেতে পড়ে আছে শুধু পাকা ধান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে জেলার ১১ উপজেলায় এবার ২ লক্ষ ১৮ হাজার ৫৬৫ হেক্টর জমিতে বোর ধান আবাদ হয়েছে। যা থেকে ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৩ মেট্রিক টন ধানের উৎপাদন হবার কথা। টাকার পরিমানে যা প্রায় ২ হাজার ৫শ ৭কোটি টাকা। তবে কৃষকরা জানিয়েছেন হাওরের পুরো ফসল কাটার উপযোগী হলেও সম্প্রতিক সময়ে হাওরে বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনায় তারা শ্রমিক পাচ্ছেন না। ইতোমধ্যে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ ভাগ ফসল কাটা হয়েছে।
ক্ষেতে পড়ে আছে অবশিষ্ট পাকা ধান। আবহাওয়া অধিদপ্তর চলতি সপ্তাহে হাওরাঞ্চলে বন্যাঝূকির ঘোষণা এবং প্রতিদিনের বর্ষণে কৃষকরাও এখন ফসল কাটা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বন্যাঝূকির পাশাপাশি বর্ষণ ও শীলাবৃষ্টিতে প্রতিদিনই ক্ষতি হচ্ছে ধান। গত এক সপ্তাহে ৭টি উপজেলায় শীলাবৃষ্টিতে ১২ হাজার হেক্টর ফসল নষ্ট হয়েছে। যাতে কৃষকের ক্ষতি হয়েছে ১শ ৩০ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জে ক্ষতি হয়েছে বেশি।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে চলতি মাসেই জেলার বিভিন্ন হাওরে বজ্রপাতে অন্তত ১৫ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন। এ মওসুমে শ্রমিক সংকটের মধ্যে হাওরে বজ্রঘাতে হতাহতের ঘটনায় শ্রমিক সংকট আরো তীব্র করে তোলেছে। গত বুধবার জেলা প্রশাসক বন্যাঝূঁকির পূর্বাভাসের কারণে সুনামগঞ্জের চারটি বালু মহালে কর্মরত প্রায় ৩০ হাজার বারকি শ্রমিককে এক সপ্তাহের জন্য কাজ বন্ধ রেখে ধান কাটার আহ্বান জানিয়ে মহালের ইজারাদার এবং স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দিয়েছেন। দ্রুত পাকা ফসল কাটা না হলে সর্বনাশ হতে পারে বলে কৃষক আশংকা করছেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন দশ দিনের সময় পাওয়া গেলেই কৃষকরা ফসল গোলায় তোলে নিতে পারবে।
শ্রমঘামে ফলানো বোর ফসলের ফলন এবার ভাল হলেও কৃষকের একমাত্র বোর ফসল কাটা নিয়ে দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়ছেনা। রুদ্র প্রকৃতি যাতে কৃষকের সর্বনাশ ডেকে না আনে এই প্রত্যাশায় দিন কাটছে হাওরের পাড়ের কৃষকের।
আপনার মন্তব্য