০৭ জানুয়ারি, ২০১৭ ১৭:০১
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের জেরে মৌলভীবাজার জেলায় ডাকা পরিবহন ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে বড়লেখা উপজেলার জনজীবন।
শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পরিবহন ধর্মঘট পালন শেষে বিকেলে অনুষ্ঠিত সমাবেশে (৭ জানুয়ারি) শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য যৌথভাবে মৌলভীবাজার জেলায় পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেন সকল শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ধর্মঘটের ফলে শনিবার সকাল ৬টা থেকে বড়লেখা উপজেলায় বাস-মিনিবাস, ট্রাক-সিএনজি চালিত অটোরিকশা-ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চলাচল বন্ধ রয়েছে। ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে বড়লেখা উপজেলার জনজীবন। বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেড়াতে আসা পর্যটকরা।
সরেজমিনে সকাল ৮টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত উপজেলার পৌর শহরের উত্তর চৌমুহনী, উত্তরবাজার, মধ্যবাজার, দক্ষিণবাজার, পাখিয়ালা চৌমহীন, কাঁঠালতলী, রতুলী, দক্ষিণভাগ, সুজানগর, দাসেরবাজার, চান্দগ্রামবাজার ঘুরে পরিবহন শ্রমিকদের রাস্তা অবরোধ ও টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। বিকেল সাড়ে ৩টায় এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। তবে অবরোধ চলাকালে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। মৌলভীবাজার থেকে বড়লেখা-সিলেটের আঞ্চলিক সড়ক ছাড়াও গ্রামের রাস্তায় যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।
যানচলা চল বন্ধ থাকায় পণ্য পরিবহন ও জরুরী কাজে গন্তব্যস্থানে যাওয়ার জন্য বের হয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেকই।
দুপুরে চান্দগ্রাম বাজার এলাকায় ঢাকা থেকে মাধবকু- জলপ্রপাতে স্বজনদের নিয়ে বেড়াতে আসা আহমেদ হোসাইন নামের একজনের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, ধর্মঘটের বিষয়টি জানতাম না। সকাল ৭টা থেকে অবরোধে আটকা পড়েছি। গাড়ী ছাড়া হচ্ছে না। কখন মাধবকু-ে যাব বা ঢাকায় ফিরবো অনিশ্চয়তায় আছি।
বড়লেখা-সিলেট আঞ্চলিক সড়কের তালিমপুর এলাকায় রিক্সাভ্যানে করে পান পরিবহনের সময় কথা হয় এক পান ব্যবসায়ীর সাথে। জামিল হায়দার নাম জানিয়ে তিনি জানান, আমরা ৩জন পান ব্যবসায়ী বিয়ানীবাজার থেকে এসেছি। ধর্মঘটের কথা জানতাম না। এখন বিপাকে পড়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ভ্যানে করে পান নিয়ে যেতে হচ্ছে।
শহরের উত্তর চৌমুহনী এলাকায় অবরোধে আটকা পড়ে কলেজে পৌঁছাতে পারেনি প্রভাষক দীপক কুমার বিশ্বাস। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। অবরোধ কিছুটা শিথিল হলে কলেজে যেতে পারতাম।
তবে নিজেদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা ট্রাক-ট্যাংক-লরি-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান খলকু ও উপজেলা সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গল শহরের ভানুগাছ রোডে গাড়ি রাখা (পার্কিং) নিয়ে এক বিজিবির সদস্যের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের বাকবিতন্ডা হয়। এ খবর বিজিবির শ্রীমঙ্গল সদর দপ্তরে পৌঁছালে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে মারধর করেন। পরে পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা বিজিবি সদস্যদের ওপর পাল্টা হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় প্রায় ১০০ গাড়ি ও ৫০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে আটজন গুলিবিদ্ধসহ প্রায় ৫০ জন আহত হয়।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ সহিদুর জানান, অবরোধ চলাকালে বড়লেখার কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়ন রয়েছে।
আপনার মন্তব্য