হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

২৪ এপ্রিল, ২০১৫ ২৩:৩১

খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে হাওড়ের পাকা ধান তলিয়ে গেছে

হঠাৎ করেই স্লুইস গেইট খুলে দেয় ভারত

ফাইল ছবি

হবিগঞ্জে গত কয়েকদিন ধরে কালবৈশাখীর আনাগোনা থাকলেও বৃষ্টিপাত হচ্ছিল পরিমিত। বৃহস্পতিবার সারাদিন কোন বৃষ্টি হয়নি। দুশ্চিন্তামুক্ত ভাবেই ঘুমিয়েছিলেন লাখাই উপজেলার চরগাঁও গ্রামসহ আশেপাশের এলাকার কৃষকরা। কিন্তু গভীর রাতে খোয়াই নদীর পানি বেড়ে গিয়ে বাধ ভেঙ্গে পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ায় এখন তাদের মাথায় হাত। খোয়াই নদীর উজানে ভারত হঠাৎ করে স্লুইস গেইট খুলে দেয়ায় এই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা সীমান্তে খোয়াই নদীর ভারতীয় অংশে স্লুইস গেইট খুলে দেয়া হয়। এতে হঠাৎ করেই খোয়াই নদীর পানি বেড়ে ৮.৮ মিটারে চলে যায়। পানি বৃদ্ধির ফলে খোয়াই নদীর বাধ উপচে লাখাই উপজেলার চরগাঁও গ্রাম এলাকার হাওড়ের পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যায়। এক পর্যায়ে বাধ ভেঙ্গে গেলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বর্তমানে খোয়াই নদীর পানি ৭.৮ মিটারে অবস্থান করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সায়েদুল আলম জানান, ভারত সাধারণত এই স্লুইস গেইটটি খুলে দেয় না। সেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় হঠাৎ করেই স্লুইস গেইটটি খুলে দেয়া হয়। লাখাই উপজেলার চরগাঁও গ্রামের বাধ মেরামতের জন্য ইতোমধ্যে ৩শ’ চটের বস্তা বরাদ্দ করা হয়েছে। সেগুলোতে মাটি ভরে বাধ মেরামতের কাজ চলছে।

কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, খোয়াই নদীর বাধ ভেঙ্গে যাওয়ায় লাখাই উপজেলার গোয়াকাড়া উত্তর হাওড়, ভরপূর্ণি উত্তর হাওড়, আইরন বিল, ভরপূর্ণি দক্ষিণ হাওড় ও বলাকান্দি হাওড়ের পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। লাখাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ড. শহীদুল ইসলাম জানান, এই পানিতে এ সকল হাওড়ের প্রায় ৭শ’ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।

ভরপূর্ণি গ্রামের কৃষক হাবিব মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাতে হাওড় পানিতে তলিয়ে গেছে খবর পেয়ে ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠেন তিনি। ওই হাওড়ে তার ৭ কেদার জমিতে পাকা ধান ছিল। সবই এখন পানির নিচে। ডুবিয়ে ধান কাটার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। তিনি বলেন, অনেক ধারদেনা করে এবার চাষাবাদ করেছি। ফসল কাটতে না পারলে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হবে।
এদিকে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নবীগঞ্জ উপজেলার বেশ কিছু এলাকার পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ১৫ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ হয়েছে। কিন্তু উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর বোরো ধানের পানির নিচে চলে গেছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মুহাম্মদ দুলাল উদ্দিন বলেন, পানিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  
 
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য এখন পর্যন্ত বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও বেশ কিছু জমি আক্রান্ত হয়েছে। আবহাওয়া ভাল হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত