১৫ মে, ২০১৫ ১৮:৫৮
একের পর এক মুক্তমনা ব্লগার ও বিজ্ঞান লেখক হত্যার পরও সরকারের নির্লিপ্ততায় প্রগতিশীল মানুষরা আজ অসহায় ও নিরাপত্তাহীন। সরকার হত্যাকারীদের গ্রেফতার না করে বরং আস্কারা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সিলেটের গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশে অংশ নেয়া বক্তারা।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারস্থ প্রজন্ম চত্বরে বিজ্ঞান লেখক ও সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক অনন্ত বিজয় দাশ হত্যার প্রতিবাদে ও হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে আয়োজিত সংহতি সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন- রাজীব হায়দার, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবুর পর অনন্ত বিজয়কেও একই কায়দায় হত্যা করেছে ধর্মান্ধ মৌলবাদি গোষ্ঠী , হত্যার পর দায় স্বীকার করলেও সরকার একটি ঘটনারও সুরাহা না করায় হত্যাকারীরা আস্কারা পাচ্ছে।
বক্তারা উল্লেখ্য করেন- প্রগতিশীল লেখকরা সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যান। আর মৌলবাদীরা সমাজকে পেছনের দিকে টানে। অনন্ত বিজয় ছিলেন বিজ্ঞান ও যুক্তি নির্ভর লেখালেখির জন্য সিলেটের মধ্যে অনন্য এক মানুষ। তাকে হত্যা করা মানে সমাজের এক আলোকবর্তিকাকে হত্যা করা।
অনন্তের বন্ধু ও সহযোদ্ধারা বলেন- অনন্ত বিজয় আমাদের মাঝে নেই এখনো তা আমাদের বিশ্বাস হচ্ছে না, আমাদের মনে হচ্ছে আমরা যেন একটি দুঃস্বপ্নের মধ্যে আছি। যারা আমাদের এই দুঃস্বপ্ন দেখিয়েছে তারা পরাজিত শক্তি, তারা যুক্তির কাছে পরাজিত হয়ে চাপাতি তোলে নিয়েছে। আমরা হয়ত আমাদের বন্ধুকে হারিয়েছি কিন্তু আমাদের দর্শন, চিন্তা জয়ী হয়েছে। আমাদের দর্শনে পরাভূত হয়ে তারা তাদের বিকলাঙ্গ দর্শনের চেহারা দেখিয়েছে। বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে অবিজ্ঞান পরাজিত হয়েছে আবারও।
সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক রাজীব রাসেলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তারা প্রশ্ন রাখেন- এই অবস্থায় রাষ্ট্র যদি আমাদের নিরাপত্তা দিতে না পারে তাহলে রাষ্ট্রীয় বাহিনী দিয়ে কি হবে?
গণজাগরণ মঞ্চ সিলেটের মুখপাত্র দেবাশীষ দেবু তার বক্তব্যে উল্লেখ্য করেন- অনন্তের খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতার না করা হলে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। আগামী সোমবার সকাল ১১টায় শহীদ মিনার থেকে মিছিল করে জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।
অনন্তকে যে স্থানে হত্যা করা হয়েছে সেখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান করার জন্য সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাছে দাবি জানান গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা।
সংহতি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রবীন রাজনীতিবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার আরশ আলী, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ভবতোষ রায় বর্মন রানা, ডেপুটি কমান্ডার আবদুল খালিক, শাহজালাল বিশ্বিবদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ইউনুস, অধ্যাপক ড. গণি, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এডভোকেট সৈয়দ মনির হেলাল, এনামুল মুনির, প্রগতি লেখক সংঘ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক মাধব রায়, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক রজতকান্তি গুপ্ত, উদীচী সিলেটের সাধারণ সম্পাদক রতন দেব, ধ্রুব গৌতম, ছাত্র ইউনিয়ন সিলেটের সভাপতি সহিদুজ্জামান পাপলু, ছাত্রফ্রন্ট সিলেটের সভাপতি পাপ্পু দে, অনলাইন এক্টিভিস্ট একুশ তাপাদার প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য