নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ মে, ২০১৫ ২৩:৩৭

‘দেশটাকে তোমরা নরক বানাবে, কিন্তু স্বর্গ পাবে না’

অনন্ত খুব ছোটবেলা থেকেই ছিলো বইয়ের পোকা। স্কুলে থাকতে তারা তিন বন্ধু মিলে একটা গোয়েন্দাবাহিনী গড়ে তুলেছিলো। এই তিনজন মিলে নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে বই কিনতো। কিন্তু ঝামেলা দেখা দিলো বই আগে কে পড়বে তা নিয়ে। শেষে তারা সিদ্ধান্ত নিলো একটি বই কিনে তিন টুকরো করে ফেলবে। এক একজন একেক টুকরো করে পড়বে। একজনের এক টুকরো পড়া শেষ হলে অন্যজনের সাথে বিনিময় করবে। জীবনে একটি দিনের জন্যও তার বই পড়ার নেশা কমে নি।

অনন্ত বিজয় হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে অনন্তের বইপ্রেমের এই গল্প শোনান তার ছেলেবেলার বন্ধু ডা. নমিতা দাশ। এসময় অনন্তের সঙ্গে নানা স্মৃতি, অনেন্তর যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তা চেতনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নমিতা। বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে যখন প্রিয় বন্ধুর স্মৃতিচারণ করছিলেন বিদিতা তখন সমাবেশে উপস্থিত অনেকের চোখেও জল।

লেখক অনন্ত বিজয় দাশ ছোটবেলা থেকেই যুক্তিশীল ছিলেন জানিয়ে নমিতা বলেন, সে সবসময় সবকিছু যুক্তি দিয়ে বুঝার, যাছাই-বাছাই করার চেষ্টা করতো। এটিই তার কাল হলো।

নমিতা বলেন, অনন্ত অনেকদিন থেকেই হুমকীর মধ্যে ছিলো। অভিজিৎ রায় হত্যার পর থেকে তার চোখে মুখে আমি সবসময় একটা ভয় দেখতে পেতাম। তাই চেয়েছিলাম সে দেশের বাইরে চলে যাক। সেও চেয়েছিলো। কিন্তু পরলো না। দেশে ছাড়ার আগে তাকে পৃথিবীছাড়া করে দিলো খুনিরা। আমি কোনোদিনও ভাবি নি, অনন্ত নেই, অথচ তাকে নিয়ে আমাকে বলতে হবে।

খুনিদের উদ্দেশ্য নমিতা বলেন, এভাবে একের পর এক মেধাবী তরুণদের হত্যা করে তোমরা দেশটাকে নরক বানাবে। কিন্তু তোমরা স্বর্গ পাবে না। খুন করে স্বর্গ পাওয়া যায় না।

বন্ধু হত্যার বিচার দাবি করে নমিতা বলেন, এখনো খুনিরা ধরা পড়ে নি। আমি জানি না, এই সরকারের পক্ষে খুনিদের ধরা সম্ভব কী না। কিংবা সরকার বদল হলেই খুনিরা যে ধরা পড়া যাবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই আমি সরকারের পক্ষে বিপক্ষে কিছু বলবো না, আমি শুধু বিচার চাই।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত