নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ জুন, ২০১৫ ২২:২২

বাজেটে ব্যক্তিগত করমুক্তির সীমা ৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছি : সিলেট চেম্বার সভাপতি

সংসদের বাজেট অধিবেশন চলছে। এই অধিবেশনেই আগামী অর্থ বছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল আমল আবদুল মুহিত। আসন্ন বাজেট, সিলেট চেম্বারের প্রস্তাবনা ও সিলেটের ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে কথা বলেছেন সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সালাউদ্দিন আলী আহমদ।

প্রশ্ন : আসন্ন বাজেট উপলক্ষ্যে আপনাদের প্রধান প্রস্তাবনাগুলো কী কী?

সালাহউদ্দিন আলী আহমদ : প্রতিবছরই বাজেটের আগে সিলেট চেম্বারের পক্ষ থেকে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। এবারও প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। আমরা মূলত সিলেটের ব্যবসা বাণিজ্যের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কিছু প্রস্তবানা দিয়েছি, এরমধ্যে বেশিরভাগই ট্যাক্স ও ভ্যাট সংক্রান্ত।

প্রশ্ন : বাজেট প্রস্তাবনায় ট্যাক্স ও ভ্যাটের বিষয়ে কোন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে?

সালাহউদ্দিন আলী আহমদ : আমরা করমুক্ত আয়ের সীমা বর্ধিতকরণের দাবি জানিয়েছি। বিগত বছরগুলোর  গড় মূল্যস্ফিতির হারের তুলনায় বর্তমান করমুক্ত আয়ের সীমা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ। তাই ব্যক্তিগত করমুক্তির সীমা ২ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে ৩ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছি। এছাড়া সার্বজনীন স্বনির্ধারণী রিটার্নের ক্ষেত্রে অডিটের জন্য রিটার্ন বাছাইয়ের সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ  ও ঢাকা চট্টগ্রামের বাইরে শিল্পকারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে কর মওকুফের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন : স্থানীয় ব্যবসা বাণিজ্যোর প্রসারে কোন প্রস্তবানা আছে কী?

সালাহউদ্দিন আলী আহমদ : সিলেট বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের। এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা বারবার এই দাবি জানিয়ে আসছে। এটি অনুমোদন হয়ে অর্থও বরাদ্ধ হয়ে গেছে। এখন কেবল বাস্তবায়নের অপেক্ষা। আমরা সিলেট বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছি।

প্রশ্ন : অনেকক্ষেত্রে বাজেটের প্রস্তাবনা তেমন কার্যকর হয় না। সেক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসা বাণিজ্য প্রসারে চেম্বারের উদ্যোগ কী থাকবে?

সালাহউদ্দিন আলী আহমদ : প্রস্তাবনা কার্যকর হয় না এ কথা ঠিক নয়। যুক্তিসংগত প্রস্তাব দিলে সরকার অবশ্যই গ্রহণ করে। যদি প্রস্তাবটি রাজস্বখাতে কোনো প্রভাব না ফেলে তাহলে সরকার সবসময়ই বিবেচনা করে। বিগত সব বাজেটেই আমাদের কিছু প্রস্তাবনা গৃহিত হয়েছে।

প্রশ্ন : সিলেটে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে চেম্বার কি কাজ করছে?

সালাহউদ্দিন আলী আহমদ : স্থানীয় ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা-সঙ্কট তুলে ধরাই চেম্বারের কাজ। চেম্বারের কাজ এই সঙ্কটগুলো সমাধানে সরকারসহ সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা-দেনদরবার করা। পলিসি নির্ধারণে সরকারকে সহায়তা করাই চেম্বারের কাজ। সিলেট চেম্বার এই কাজগুলোই করে যাচ্ছে।

প্রশ্ন : আপনারা বাজেটে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছেন। এটি হলে সিলেটের ব্যবসা বাণিজ্যে কেমন প্রভাব ফেলবে?

সালাহউদ্দিন আলী আহমদ :  বিশেষ অর্থনৈতিক জোন হলে সিলেটের ব্যবসা বাণিজ্যের অনেক প্রসার ঘটবে। এখন উপযুক্ত জমির অভাবে অনেকে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারছেন না তখন এই সঙ্কট দূর হবে।

প্রশ্ন : সিলেটের উদ্যোক্তারা উৎপাদনশীল খাতে তেমন বিনিয়োগ করছেন না। এখানে শিল্প কারখানা গড়ে উঠছে না কেনো?

সালাহউদ্দিন আলী আহমদ : একটা সময় এই সমস্যা ছিলো। ইদানিংকালে তা অনেকাংশেই দূর হয়েছে। এখন অনেক শিল্প কারখানা হচ্ছে। এক্ষেত্রে সিলেট এখন অনেক এগিয়েছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দেশের অনেক বড় বড় উদ্যোক্তারাও এখন সিলেটে কারখানা গড়ে তুলছেন।

প্রশ্ন : কিন্তু সিলেটের উদ্যোক্তারা তো সেই অর্থে এগিয়ে আসছেন না। ব্যাংকে যদিও প্রচুর ডিপোজিট পড়ে আছে!

সালাহউদ্দিন আলী আহমদ : এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোরও কিছু সমস্যা ছিলো। এককালে সিলেটের ব্যাংকারদের ডিপোজিট বেইজ মানসিকতা ছিলো। অবশ্য সেটি এখন অনেক পরিবর্ত হয়েছে। তবে সিলেটে সাহসী উদ্যোক্তার কিছু অভাব রয়েছে। এ কারণে শিল্প কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে সিলেট কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে।

প্রশ্ন : সিলেটে অনেক প্রবাসী রয়েছেন। যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে তা ব্যবসা বাণিজ্যে অনেক ভালো করছেন। অথচ তারা সিলেটে বিনিয়োগে এগিয়ে আসছেন না কেনো?

সালাহউদ্দিন আলী আহমদ : দেশে বিনিয়োগটা এখনো অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। সিলেটের প্রবাসীরা ঝুঁকি নিতে চান না। এছাড়া দেশে শিল্প কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে অনেক আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও রয়েছে। এসব কারণে সিলেটের প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগে কিছুটা অনাগ্রহী। তবে এখন এই অনেক পরিবর্তন হয়েছে। প্রবাসী বিনিয়োগে অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

প্রশ্ন : সিলেট থেকে তো সবজি-ফল জাতীয় পণ্য রফতানিও হয়ে থাকে। রফতানিক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকগুলো কী কী?

সালাহউদ্দিন আলী আহমদ :  রফতানিক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হলো সিলেটের বিমানবন্দর, শুল্ক স্টেশনগুলোতে ওয়ার হাউস নেই। অবকাঠামোও খুবই রুগ্ন। রফতানি বৃদ্ধির জন্য ওয়ার হাউস নির্মাণ করতে হবে। এতে করে সিলেট থেকে সরাসরি পণ্য রফতানি সম্ভব হবে। রফতানি বাড়বে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত