সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

০৮ জুন, ২০১৫ ০০:৫৭

সামরিক মর্যাদায় নীলকণ্ঠের শেষকৃত্য : শোকার্ত মানুষের ভীড়

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সীমান্ত এলাকার গ্রাম গুলোতে ছিল শোকের পরিবেশ। সকাল ৯ টা থেকেই গিলাগড়া গ্রাম পাশ্ববর্তী মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশের মাটিরাবন বিজিবি ক্যাম্প পাশ্ববর্তী হাওরে গিলাগড়াসহ আশপাশের গ্রামগুলোর হাজার হাজার মানুষ মালিতে শান্তিরক্ষী মিশনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সেনা সদস্য নীলকন্ঠ হাজংকে এক নজর দেখার জন্য এসে অপেক্ষা করতে থাকেন। বেলা বাড়তে থাকলে মানুষের ভীড়ও বাড়তে থাকে।

১২ টা ৫০ মিনিটে মালির বাংলাদেশ ট্রান্সফোর্ট কোম্পানীর সেনা কর্মকর্তা মেজর হুমায়ুন ও নীলকন্ঠের ভাই সমর সিংহ হাজং ঢাকা সেনানীবাস থেকে নীলকন্ঠের মরদেহ নিয়ে রওয়ানা দেন। মরদেহবাহী এয়ার ফোর্সের হ্যালিকপ্টার গিলাগড়ার এসে পৌঁছায় দুপুর ২ টায়। সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিবিশনের সদস্যরা জাতীয় পতাকা ও সেনা বাহিনীর পতাকায় মুড়িয়ে মরদেহ পরে নিয়ে যান নীলকন্ঠের বাড়ীতে। এসময় সেখানে হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরিবারের লোকজন, আত্মীয়-স্বজনসহ গ্রামবাসী কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ধর্মীয় আচার শেষে বেলা ২ টা ৪০ মিনিটে বাড়ীর সামনের মাঠে সামরিক মর্যাদা প্রদান শেষে শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয় নীলকণ্ঠের।

পরে মালি থেকে মরদেহের সঙ্গে আসা মেজর হুমায়ুন শান্তিরক্ষী মিশনের ব্যাটেলিয়ান কমান্ডার লে.কর্নেল মাহমুদের সঙ্গে নীলকণ্ঠের বাবা রিজেন্দ্র হাজং ও স্ত্রী সঞ্চিতা হাজংয়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। এসময় মালিতে দায়িত্ব পালনরত সেনা সদস্যদের ব্যাটেলিয়ান বাংলাদেশ ট্রান্সপোর্ট কোম্পানী মালির সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যদের পক্ষ থেকে নীলকেন্ঠর স্ত্রী সঞ্চিতা হাজংকে ৬১ হাজার ৫০০ টাকা এবং বাবা রিজেন্দ্র হাজংকে ৪১ হাজার ৫১৫ টাকা শান্তিরক্ষী মিশনের বীরত্ব খেতাব, মেডেল ও সনদ তুলে দেন মেজর হুমায়ুন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত