০৪ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ ০০:২৫
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সীমান্তবর্তী উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নে ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ‘সচেতন যুব পরিষদ’ নামে একটি সামাজিক সংগঠন আন্দোলন করছে। আন্দোলনকারীদের ইঙ্গিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অশালীন মন্তব্য মন্তব্য করায় লাঞ্ছিত হয়েছেন এক চিকিৎসক।
মোঃ রেজাউল করিম নামের ওই চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় শাহবাজপুর বাজারে এমবিবিএস ডিগ্রীধারী দাবি করে চিকিৎসা করছেন। তবে আন্দোলনকারী ও স্থানীয়দের দাবি ওই চিকিৎসকসহ এলাকায় চিকিৎসা প্রদানকারী অধিকাংশই ভুয়া চিকিৎসক। গত শুক্রবার (০২ ফেব্রুয়ারি) রাত আটটার দিকে রেজাউল লাঞ্ছিত হন।
আন্দোলনকারী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন উত্তর শাহবাজপুর। এ ইউনিয়নে ভালো কোনো চিকিৎসক নেই। এর সুযোগে অনেকে ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে চিকিৎসা করছেন। ফলে প্রতারিত হচ্ছিলেন এলাকার লোকজন। এসব ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে আন্দোলন নামে ‘সচেতন যুব পরিষদ’ নামে একটি সামাজিক সংগঠন। তাদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সে সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনে এসব ভুয়া চিকিৎসকদের অপকর্মের বিষয়টি উঠে আসলেও রহস্যজনক কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়ভাবে।
এদিকে ভুয়া চিকিৎসকদের অপচিকিৎসার বিষয়ে স্থানীয়দের সচেতন করতে ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আবারও আন্দোলনে নেমেছে ‘সচেতন যুব পরিষদ’। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন অনেকে। এ নিয়ে গত (৩১ জানুয়ারি) শাহবাজপুর বাজারের রেজাউল করিম নামের এক চিকিৎসক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের নিজের ব্যক্তিগত আইডিতে আন্দোলনকারীদের ‘শালা’ ইঙ্গিত করে মন্তব্য করেন।
এতে ক্ষুব্দ হয়ে গত শুক্রবার (০২ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিক্ষুব্ধ জনতা ওই চিকিৎসককে স্থানীয় বাজারে পেয়ে শালা বলার কারণ জানতে চান। তখন এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায় ওই চিকিৎসক থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিকিৎসক মোঃ রেজাউল করিম শনিবার বলেন, ‘তারা (আন্দোলনকারীরা) চাঁদা দাবি করেছিল। আমি দেইনি। আমার বাসায় গিয়ে আমার স্ত্রীসহ আমাকে মারধর করেছে। ঘরে ভাঙচুর করেছে। ঘরের উপর থেকে টেনে আমার জ্যাকেট ছিঁড়ে ফেলে। থানায় অভিযোগ দিয়েছি ১০/১২ জনকে আসামী করে।’
আন্দোলনকারীদের ইঙ্গিত করে শালা বলেছেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনি ফেসবুকে ঢুকেই দেখুন কি লিখেছে। তারা আমাকে ভুয়া ডাক্তার বলে খারাপ ভাষায় মন্তব্য করেছে। আমার কাছে একজন জানতে চেয়েছিল এরা করা। তখন বলেছি এলাকাত (শাহবাজপুরে) বিয়ে করেছি তো। এরা এলাকার সম্পর্কে শালা কুটুম হয়।’
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহমদ জুবায়ের লিটন বলেন, ‘শাহবাজপুরে ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে একটি সামাজিক সংগঠন আন্দোলন করছে। শুনেছি রেজাউল করিম শালা বলে ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন। ঢালাওভাবে সবাইকে তিনি শালা বলেছেন। এটা ঠিক হয়নি। এ বিষয়ে বিক্ষুব্ধ কয়েকজন উনাকে জিজ্ঞাসা করতে গেলে একটু উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। পরে মুরব্বিরা তাৎক্ষণিক বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছেন। উভয় পক্ষকে নিয়ে আমি বসব।’
বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমদ হোসেন বলেন, ‘শুনেছি উনি (মোঃ রেজাউল করিম) আয়ুর্বেদিক ডিগ্রি নিয়েছেন। তবে পদবিতে উনার এমবিবিএস লেখাটা ঠিক হয়নি। আমি অফিসিয়ালি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
আপনার মন্তব্য