নিজস্ব প্রতিবেদক, কমলগঞ্জ

২৬ জুন, ২০১৫ ২২:২৩

জমি দখল নিতে মিথ্যে মামলা দিয়ে গ্রেফতার, বাড়িঘরে হামলা, এসআই প্রত্যাহার

মৌলভীববাজারের কমলগঞ্জে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থেকে মিথ্যা মামলা দিয়ে এক পরিবারের দুই নারীকে গ্রেফতার করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেল মামলা দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। প্রকাশ্যে নিরীহ পরিবারের বাড়িঘর চুরমার করে দিয়েছে প্রভাবশালী মহল। বাড়ির মালামাল লুট, গাছগাছালি কেটে ফেলেছে। শিশু কন্যাসহ তিন নারীকে লাঞ্ছনা ও নির্যাতন চালিয়ে নগদ অর্থসহ স্বর্নালংকার লুটে নিয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ প্রশাসন প্রভাবশালী মহলকে সহায়তায় আইন হাতে তুলে নিতেও তারা পিছপা হননি। মর্মান্তিক এই ঘটনার সংবাদে পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর অভিযুক্ত এসআইকে প্রত্যাহার এবং হামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে দু’ব্যক্তিকে আটক করেছেন।

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার দুপুরে ও শুক্রবার সকাল ১১টায় দু’দফা হামলার ঘটনায় হতচকিত হয়ে উঠেছেন এলাকার নিরীহ মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রীরামপুর গ্রামে মুজিবুন নেছা (৬০)-র বাড়ির দ’ুটি টিন শেডের মাটির দেয়ালের ঘর ভেঙ্গে মাটির সাথে মিশিয়ে ফেলা হয়েছে। বাড়ির ভিতরের চার সীমানার গাছ গাছালি কেটে ফেলা হয়েছে।

নির্যাতিতা সুমেনা বেগম বলেন, তার শ্বশুড়ের জমির মালিকানা দাবিকরে পাশ্ববর্তী সুফিয়ান, কামরুল, হান্নানদের সাথে দীর্ঘ দিনের বিরোধ চলছিল। প্রতিপক্ষের লোকেরা প্রাণনাশের হুমকি দিলে কিছুদিন আগে তারা থানায় একটি আবেদনও করেন।

অভিযোগ তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় হয়রানীমূলক মামলা দিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে কমলগঞ্জ থানার এসআই আব্দুল আজিজের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বাড়ির মুজিবুন নেছা (৫৫) ও তার বোন মুহিবুন নেছা (৪২)কে গ্রেফতার করে নেয়। এর পরপরই প্রতিপক্ষের সুফিয়ান, কামরুল, হান্নান, মন্টু, ইছুব, মিনার, নূর মিয়ার সাথে মৌলভীবাজার থেকে কয়েকজন ভাড়াটেসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালিয়ে দু’টি ঘর মাটির সাথে মিশে দেয়।

শুক্রবার সকাল ১১টায় প্রতিপক্ষের লোকেরা ফের হামলা চালায়। বাড়ির গাছগাছালি কেটে সাবাড় করে। পাকা টিউবওয়েলটিকেও ভেঙ্গে ফেলে। তাদের হামলা ও নির্যাতনের শিকার হন সুমেনা বেগম (২৫), রেজিয়া বেগম (৪৫), মাদ্রাসা ছাত্রী তৌফিকা বেগম (১২) ও শিশু রিফতি (৬) । তাদেরকে শ্লীলতাহানিরও চেষ্টা চালানো হয়।

এসময়ে নগদ টাকা ও সুমেনার কানের স্বর্নের দুল লুটে নেওয়া হয়। ঘরের ভিতরে রাখা ইফতার সামগ্রী পুকুরের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে নির্যাতিতা সুমেনা বেগম অভিযোগ তুলেছেন। খবর পেয়ে শুক্রবার শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির উপ পরিদর্শক মতিউর রহমান ও থানার উপ পরিদর্শক আব্দুল আজিজ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামবাসী বলেন, রহস্যজনক কারণে থানা নতুন মামলা গ্রহন করে একজন এসআইকে দিয়ে দুই নারীকে গ্রেফতার করে বাড়িঘর ভাঙ্গচুর ও নারীদের উপর পৈশাচিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়েছে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার এ ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই আজিজুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন এবং হামলার সাথে সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে মৌলভীবাজারের দুই ব্যক্তিকে তৎক্ষনাত আটক করেছেন।

ঘটনাস্থলে থাকা উপ পরিদর্শক আব্দুল আজিজ বলেন, বৃহস্পতিবার একটি মামলায় এ বাড়ির দুই নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে পরে কিভাবে এ হামলা হয়েছে তা বুঝতে পারছেন না জানিয়ে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: এনামুল হক বলেন, প্রতিপক্ষের অভিযোগে দুই নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুই পক্ষের মাঝে বিরোধ থাকায় হয়ত হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। এখন নির্যাতিতার পক্ষে অভিযোগ করলে তিনি মামলা নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।

খবর পেয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো: শাহজালাল, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো: আশরাফুল ইসলাম বিকাল ৩টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সহকারী পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, তিনি ঘটনার কথা শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে এ ঘটনায় নির্যাতিত লোকেরা মামলা দায়ের করবে এবং এসআই আজিজুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জোর তদন্তপূর্বক হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত