শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

২৭ জুন, ২০১৫ ১৭:৫৭

শ্রীমঙ্গলে চা বাগানে মালিক পক্ষের সাথে শ্রমিকদের সংঘর্ষ, ব্যবস্থাপকসহ আহত ৮

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের জুলেখা নগর চা বাগানে পাহারাদার কর্তৃক বাগানের নারী শ্রমিকদের শ্লীলতাহানীর জেরধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে চা বাগান ব্যবস্থাপকসহ কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও চা বাগান শ্রমিক সুত্রে জানা যায়, বাগান পাহারা দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ কিছু দিন আগে বাগানে কিছু বাইরের লোক ভাড়া করে আনে। সম্প্রতি টহলকারী দলের এক সদস্য খলিল বাগানের বেশ কয়েকজন নারী শ্রমিক ও যুবতিকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। তাকে ধরে প্রতিবাদ করতে গেলে লম্পটদল এক শ্রমিকের পায়ে আঘাত করে। শ্লীলতাহানীর শিকার আরেক চা শ্রমিকের ভাই প্রতিবাদ করতে গেলে তারা তাকে দা দিয়ে কুপ দেয়।

এ ঘটনায় ম্যানেজারের কাছে বিচার চাইতে গিয়ে বিচারের পরিবর্তে উল্টো ঐ লেবার লাইনের ১৯টি পরিবারের প্রায় ৬০/৭০ জন শ্রমিকের কাজ বন্ধ করে দেয় বাগান কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে শ্রমিকরা একত্রে ঐ ভাড়াটিয়া পাহারাদারদের উপর চড়াও হলে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রনে বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক কামরুজ্জামানও ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় উভয়ের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় ব্যবস্থাপকসহ কমপক্ষে উভয় পক্ষের ৮জন আহত হন। এদের মধ্যে ৪ জনকে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এসময় ভাংচুরেরও ঘটনা ঘটে।

বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মহরম আলী সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার দুপুরে বহিরাগত লোকজন হাসেম নামে এক চা শ্রমিককে মারধর করে। মালিকপক্ষ তাদের বহিরাগত লোকজন দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের শ্রমিকদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে আসছে। রাত হলেই যাদের ঘরে মহিলারা একা রয়েছে ওই ভাড়া করা লোকজন সেই সব মহিলাদের উপর শারীরিক নির্যাতনের চেষ্টা চালায়।

বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সম্পাদক কিশোর বারাইক বলেন, বাগানের মালিক হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাটের ফান্দুরা থেকে দশ-বার জন লোক এনে বাগানে রেখেছেন। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে শ্রমিকদের উপর পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন চালাচ্ছে। গত মঙ্গলবার রাতে বাগানের দুই নারী চা শ্রমিকের উপর তারা নির্যাতনের চেষ্টা চালায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে এবং শ্লীলতাহানীর অভিযোগে অভিযুক্ত খলিলসহ কয়েকজনকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করে।

এ বিষয়ে মালিক পক্ষের কাউকে বাগানে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

তবে টেলিফোনে বাগানের মালিক গুলসানারা জানান, তার বাগানের সুনাম ক্ষুন্ন করতে একটি মহল এ সব কাজ করছে।

এ ব্যপারে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্য আব্দুল জলিল বলেন, অভিযুক্ত একজন কে আটক করে থানায় আনা হয়েছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত