নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ জুন, ২০১৮ ১৯:৪৯

বিদ্যুৎবিহীন গ্রামে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ

বড় শহরগুলোর পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ উত্তেজনা। শুধুমাত্র প্রিয় দলের জার্সি পড়ে বা পতাকা টানিয়ে নয়, বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজনও করা হচ্ছে গ্রামাঞ্চলে। হাওরাঞ্চল খ্যাত হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার পৈলারকান্দি ইউনিয়নের শ্রীমঙ্গলকান্দি গ্রামসহ আশপাশের ১০-১২টি গ্রামে নেই বিদ্যুৎ। তাই বিনোদনের জন্য টিভি দেখার কোন সুযোগ এসব গ্রামের মানুষদের। বিদ্যুৎ না থাকলেও জেনারেটর ও প্রোজেক্টর ভাড়া নিয়ে শ্রীমঙ্গলকান্দির ৫ যুবক বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করেছেন।

আয়োজকরা হলেন শ্রীমঙ্গলকান্দি গ্রামের মিসকাত আলী, সফিকুল ইসলাম, মনসুর খান, এরশাদ আলী ও উত্তর শ্রীমঙ্গলকান্দি গ্রামের রাজু চৌধুরী।

শ্রীমঙ্গলকান্দি মাঠে বিশাল পেন্ডেল বেঁধে প্রোজেক্টরের মাধ্যমে ২০ টাকা (ঐচ্ছিক) করে টিকেট দিয়ে প্রতিদিন খেলা দেখানো হয়। আছে ৫০০ আসনের ব্যবস্থা। প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪৫০ দর্শক খেলা দেখেন।

আয়োজকরা জানান, এই আয়োজনে জেনারেটর, প্রজেক্টর, ডেকোরেটার্স, ডিশসহ আনুষঙ্গিক খরচ হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। এই ইউনিয়নের ইসলামপুর, ইমাম নগর, চর গ্রাম, মাটিকাটা, কুমড়ি, উত্তর হাটি, বিথঙ্গলসহ আশেপাশের আরও ৪-৫টি গ্রামের ক্রীড়ামোদী দর্শকরা আসেন খেলা দেখতে।

খেলা দেখতে আসা কুমড়ি গ্রামের আব্দুল মতিন, শামছু, ইয়াকুব বলেন, আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই তাই এখানে খেলা দেখতে এসেছি।

শামছু বলেন, এ গ্রাম থেকে আমাদের গ্রামের দূরত্ব অনেক। নৌকা ভাড়া করে এসেছি খেলা দেখতে।

ইসলামপুর গ্রামের রুকন মুন্সি বলেন, গ্রামে বিদ্যুৎ নেই। আমাদের আশেপাশে কয়েকটি বাড়িতে টিভি থাকলেও ডিশ নেই। তাই এখানে খেলা দেখতে এসেছি।

মাটিকাটা গ্রামের আকবর আলী বলেন, ফুটবল হল গ্রামগঞ্জের প্রিয় খেলা। আমরা গ্রামের ছেলেদের খেলা মানেই হল ফুটবল। তাই ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপ মিস করতে চাই না। প্রতিদিন নৌকা দিয়ে শ্রীমঙ্গলকান্দি আসি শুধুমাত্র খেলা দেখার জন্য।

আয়োজক সফিকুল ইসলাম জানান, গ্রাম বাংলার মানুষ ফুটবল অনেক পছন্দ করে কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকার কারণে খেলা দেখার কোন সুযোগ নেই গ্রামবাসীর। আমাদের গ্রামসহ আশেপাশের ১৫/ ২০টি গ্রামে বিদ্যুৎ নেই। তাই আমরা কয়েকজন মিলে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করেছি। আশেপাশের আরও কয়েক গ্রামের মানুষ আসেন খেলা দেখতে। তবে বৃষ্টি হলে মাঝে মাঝে দর্শকরা বাড়ি যেতে অনেক বিপাকে পারেন। এক্ষেত্রে যারা ভাড়া করা নৌকা নিয়ে আসেন তারা অন্যদের বাড়ি পৌঁছাতে সাহায্য করেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত