২১ জুন, ২০১৮ ১৭:৪৬
সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান বলেছেন, গোয়াইনঘাটের মানুষের মৌলিক ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। আগে এখানকার জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলি চিহ্নিত করুন, তারপর তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমস্যাগুলির সমাধান করতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। জনগণের সমস্যা এমন যে কোন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকতার সহিত কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (২১ জুন) গোয়াইনঘাট উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে উপজেলার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি গোয়াইনঘাটের বিদ্যমান সমস্যা নিরূপণের পাশাপাশি এ উপজেলায় সরকারের বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহবান জানান।
সকাল ১১টায় গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার পাল।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিছুজ্জামান, স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. রেহান উদ্দিন, গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাব সভাপতি এম এ মতিন, ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান চৌধুরী, লেঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহবুব আহমদ, রুস্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন শিহাব, পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুছ সালাম, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ফারুক আহমদ,যুগ্ম আহ্বায়ক সাহাব উদ্দিনসহ বিভাগীয় কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী গোয়াইনঘাটের শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের শূন্য পদে লোকবল সংকট সমাধানসহ এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, জাফলং এবং বিছনাকান্দি জিরো পয়েন্টের পাথরকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটক আসে। কিন্তু বিজিবি থাকা স্বত্বেও প্রতিনিয়ত ওই পর্যটন স্পটের জিরো পয়েন্টের পাথরগুলি লুট হয়ে যাচ্ছে।
আলীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া হেলাল বলেন, অপরিকল্পিতভাবে ক্রাশিং জোন তৈরির কারণে জাফলং মামার বাজার পয়েন্টে পানি জমে থাকে।
সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ও পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, আলীরগাঁও ইউনিয়নে হিদাইরখালে বাঁধ নির্মাণের ফলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট, জৈন্তাপুর ইউনিয়ন, গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং, পশ্চিম জাফলং ও আলীরগাঁও ইউনিয়নের হাওর অঞ্চল। প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এই বাঁধ নির্মাণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই খাল দিয়ে পানি না যাওয়ার ফলে পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম ভেঙ্গে নদীতে বিলীন হচ্ছে। এছাড়া প্রায় ৩০ বছর পূর্বে স্থাপিত ১৫০ ফুট লম্বা একটি ফুটব্রিজ উপরে পড়ছে।
এর উত্তরে জেলা প্রশাসক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ খাল-বিল বা নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ করা যাবে না। প্রকৃতপক্ষে এই বাঁধ নির্মাণের ফলে ক্ষতির আশংকা দেখা দিলে আমরা গবেষক টিমকে পাঠাব।
আপনার মন্তব্য