২২ জুন, ২০১৮ ২৩:৪৪
দশ বছর বয়সী হাসান আহমদ। সে জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের খামারখাল গ্রামের আরশ আলী ছেলে। বই খাতা কলম নিয়ে যে বয়সে স্কুলে যাওয়ার কথা সেই বয়সে সে পরিবহন শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে।
বুধবার (২০ জুন) ঝুঁকিপূর্ণভাবে তাকে লেগুনা গাড়িতে সহযোগি হিসেবে কাজ করতে দেখা যায়। হাসান জানায়, লেখাপড়ায় আগ্রহ ছিল তার, কিন্তু পারিবারিক অভাব-অনটনের কারণেই তাগাড়িতে কাজ করতে হচ্ছে।
শুধু হাসান নয়, জগন্নাথপুরে এরকম অনেক কিশোর জীবিকার তাগিদে পরিবহন শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। উপজেলা শহরে চলাচলকারী টেম্পো, লেগুনা কিংবা অটোরিকশার চালক অথবা সহযোগি (হেলপার)-এর কাজ বেছে নিতে হয়েছে তাদের। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে ভোর থেকে মধ্যরাত অবদি গাড়িতে কাজ করতে হয় তাদের।
জীবনের ঝঁকির পাশাপাশি দিনভর যাত্রীদের বকাঝকা, ভাড়া নিয়ে হট্টগোল, ট্রাফিক পুলিশের তাড়া ইত্যাদি নানা সমস্যা আর অবহেলা জোটে এসব শিশু শ্রমিকদের কপালে।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে পাগলা আঞ্চলিক মাহাসড়কের ও উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে চলাচল করা টেম্পো, লেগুনা ও অটোরিকশার চালক কিংবা হেলপার হিসেবে ১০ বছর থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু ও কিশোরদের দেখা গেছে। এতে এসব পরিবহনের যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বলেন, এ বিষয়টি একাধিকবার আমার চোখে পড়েছে। পরিবহন ও মালিক সমিতিকে আমি সর্তক করেছি। শীঘ্রই মিটিং ডেকে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
এগারো বছর বয়সী লেগুনা গাড়ির হেলপারের সায়েক আহমদ জানায়, সারাদিন লেগুনাতে হেলপারি করে দিন শেষে মালিক পক্ষ ৬০/১০০ টাকা দেয়।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) জগন্নাথপুর শাখার সভাপতি জাহেদ আহমদ জানান, জগন্নাথপুর পরিবহন সমিতির নেতাদের উদাসীনতার কারণে লাইসেন্সবীহিন চালকরা গাড়ি চালানোর সুযোগ পাচ্ছে। তিনি বলেন, শিশুদেরকে হেলপার হিসেবে ব্যবহার করছে। আইন লঙ্ঘন করে কিশোরদের হেলপার আর কিছু কিছু গাড়িতে চালক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার (ওসি) হারুনূর রশীদ চৌধুরী বলেন, শিশু শ্রমের ব্যাপারে থানা পুলিশ তৎপর রয়েছে। বিশেষ করে জগন্নাথপুর ট্রাফিক বিভাগ এ বিষয় নজরে রেখেই সব সময় কাজ করছে।
আপনার মন্তব্য