নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ জুন, ২০১৮ ১৬:৪১

সিসিক নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ইসির হস্তক্ষেপ কামনা সুজনের

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিকের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিতকরণ এবং নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনের প্রত্যাশিত ভূমিকা বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন রিটার্নিং অফিসার মো. আলীমুজ্জামানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করছেন সুজন নেতৃবৃন্দ।

সোমবার (২৫ জুন) নগরীর মেন্দিবাগস্থ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা কার্যালয়ে প্রদান করা স্মারকলিপিতে বিভিন্ন বিষয়ে অবহিত করাসহ নির্বাচন কমিশনারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। পাশাপাশি জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও গ্রহণ করেছে সুজন।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ স্মারকলিপিতে কারাগারে আটক ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিতেরও দাবি জানান। স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, সুজন সিলেটর সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ইরফানুজ্জামান চৌধুরী, সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা আক্তার, সদস্য ফাহমিদা বেগম, ছালেহ আহমদ চৌধুরী, ইউসুফ আলী, আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. আব্দুল হালিম প্রমুখ।

এ সময় রিটার্নিং অফিসার মো. আলীমুজ্জামান, সমন্বয়ক-১ ও স্টাফ অফিসার উত্তম কুমার রায়, সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. মোখলেছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ২৯ জুন সিলেটে একটি গোলটেবিল বৈঠক, ১১ জুলাই থেকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীগণকে এক মঞ্চে এনে ‘জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠান' আয়োজন, ১১ জুলাই থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীগণ কর্তৃক হলফনামায় প্রদত্ত তথ্যসমূহের ভিত্তিতে তথ্যচিত্র তৈরি করে তাঁদের সম্পর্কে জেনে-শুনে-বুঝে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীদের নির্বাচিত করার আহ্বানসহ তা প্রকাশ, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ তথা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীদের নির্বাচিত করার আহ্বানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রচারণা চালানো, মানববন্ধন ও পদযাত্রা ইত্যাদি।

এছাড়া স্মারকলিপিতে প্রত্যাশিত ভূমিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নির্বাচন কমিশন তথা রিটার্নিং অফিসারের প্রতি বিভিন্ন বিষয়ে আহ্বান জানানো হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, অতীতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনসমূহে ঘটে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহ থেকে সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করে তা থেকে উত্তরণের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ, সফল নির্বাচন অনুষ্ঠানের ভালো দৃষ্টান্তসমূহ অনুসরণ করা, মনোনয়নপত্রের সাথে প্রার্থী প্রদত্ত হলফনামা ও আয়কর বিবরণীসমূহ দাখিলের সাথে সাথেই আবেদনকারীদের সরবরাহ করা এবং দ্রুততার সাথে ওয়েবসাইটে আপলোড করা, প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই যাতে নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে মেনে চলেন, সে ব্যাপারে কঠোরতা প্রদর্শন, কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ, নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ করা, কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক বা কোনো প্রার্থীর আত্মীয়-স্বজনকে এ সকল পদে নিয়োগ দান থেকে বিরত থাকা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, যাতে তারা তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ক্ষেত্রে পক্ষপাতমূলক আচরণ না করেন সে ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখা, ওয়ার্ডভিত্তিক সকল প্রার্থীকে এক মঞ্চে এনে প্রার্থী পরিচিতি (জনগণের মুখোমুখি) অনুষ্ঠানের আয়োজন ইত্যাদি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত