জামালগঞ্জ প্রতিনিধি

২৭ জুন, ২০১৮ ১৭:৩০

মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র প্রদানে টাকা আদায়ের অভিযোগ

সুনামগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশংসাপত্র ও মার্কশিট (নম্বরপত্র) প্রদানে ইচ্ছে মতো টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী প্রশংসাপত্র ও নম্বরপত্র প্রদানের জন্য অর্থ আদায়ের কোন সুযোগ না থাকলেও রশিদ দিয়ে অর্থ আদায় করছে জামালগঞ্জের দুইটি ও শাল্লার একাধিক উচ্চ বিদ্যালয়।

জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশংসাপত্র ও মার্কশিট (নম্বরপত্র) প্রদানে সুনামগঞ্জ সদরে ১০০ টাকা, জামালগঞ্জে ৩০০-৩৫০ টাকা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ৫০-১০০ টাকা, দিরাইয়ে ১০০-১৫০ টাকা, শাল্লায় ৩০০ টাকা, তাহিরপুরে ৫০-১০০ টাকা, ছাতকে ১০০ টাকা ও দোয়ারাবাজারে ১০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। অধিকাংশ এলাকায় এসব টাকা আদায়ের জন্য কোন রশিদ না দিলেও ব্যতিক্রম কেবল জামালগঞ্জে। জামালগঞ্জের দুই উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রিন্ট করা রশিদের মাধ্যমে ছাত্রদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছেন। বিদায়ী সকল ছাত্র-ছাত্রীদের বাধ্যতামূলক সেই টাকা দিতে হচ্ছে।

জামালগঞ্জ ও শাল্লার একাধিক ছাত্র-ছাত্রী জানান, শিক্ষাবোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশংসাপত্র ও মার্কশিট প্রদানের সময় টাকা আদায় করার নিয়ম নেই। কিন্তু জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং শাল্লার সকল উচ্চ বিদ্যালয় ৩০০ থেকে সাড়ে ৩৫০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। সকল ছাত্র-ছাত্রীকেই বাধ্যতামূলক এই টাকা দিতে হয়েছে।

জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান চক্রবর্তী বলেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং (পরিচালনা) কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক মার্কশিটের জন্য ৩৫০ টাকা করে রাখা হচ্ছে এবং এর বিধান আছে। এটা সারা জীবনই রাখা হচ্ছে, সারা বাংলাদেশে নেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে আরও বেশি নেওয়া হয়। রিসিপ্টের মাধ্যমে টাকা রাখা হচ্ছে এবং সেই টাকা ব্যাংকে যাচ্ছে।’

জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফুর রহমান বলেন, পরীক্ষার আগে ফরম পূরণের সময় সার্টিফিকেট ও মার্কশিটের টাকা রাখা হয়। আমরা প্রশংসাপত্রের জন্য ৩০০ টাকা করে রাখছি। মার্কশিটের জন্য কোনো টাকা রাখা হচ্ছে না।

শাল্লা উপজেলা সদরের গোবিন্দ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহি পাল দাস বলেন, ‘মার্কশিট প্রদানে টাকা রাখার সুযোগ নেই। তবে প্রশংসাপত্রে টাকা রাখা হয়। সবাই টাকা আদায় করছেন। আমরা এই খাতে টাকা রাখতে পারি।’

একই এলাকার শহীদ আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফ মোহাম্মদ দুলাল বলেন, ‘প্রশংসাপত্র ও মার্কশিট প্রদানে আমরা কোন টাকা আদায় করি না। আমার স্কুলে কারো কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয় না।’

বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি তাহিরপুরের জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুদাচ্ছির আলম বলেন, ‘বিদায়ী ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট ফি আদায়ের কোন নীতিমালা নেই। প্রশংসাপত্র ও মার্কশিট প্রদানের সময় বাধ্যতামূলক টাকা আদায়ের সুযোগ নেই।’

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশংসাপত্র ও মার্কশিট প্রদানের সময় টাকা আদায়ের বিষয়টি আমি দেখবো।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত