বড়লেখা প্রতিনিধি

২৮ জুন, ২০১৮ ০০:২৪

বড়লেখায় পানিবন্দি ৪২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় ভাসছে মৌলভীবাজারের বড়লেখা। বন্যার পানিতে নিমজ্জিত উপজেলার বাসাবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রাস্তাঘাট প্লাবিত হওয়ায় বন্ধ রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থাও।

বন্যার পানি উঠেছে হাওরপাড়ের দাসেরবাজার-বাছিরপুর এলজিইডি রাস্তার সাত জায়গায়। বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলার অন্তত ৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পানিবন্দী বিদ্যালয়গুলোতে কমেছে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি।

পানিবন্দি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে-পাকশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাজিরবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আব্দুস সত্তার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম বর্ণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কান্দিগ্রাম মিহারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সৎপুর বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রংপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মনারাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধর্মদেহী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধর্মদেহী এসসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ বাগীরপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চান্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্বপংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মালিচিরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধলিরপর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টুকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাবিজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খুটাউরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুর্শিবাদকুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দ্বিতীয়ারদেহী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাকালুকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়ময়দান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টেকাহালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাঞ্চনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কটালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাঘমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাটনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভোলারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেড়াকুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সালদিগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুজানগর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কটালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাটনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কামিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এরমধ্যে কাজিরবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাবিজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খুটাউরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুর্শিবাদকুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দ্বিতীয়ারদেহী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাঘমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি বেশি হওয়ায় স্কুলে শ্রেণী কার্যক্রম নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিকল্প জায়গায় পাঠদান নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৬ জুন) উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির মিটিং এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যের বিভিন্ন স্থানের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গত ১ সপ্তাহ ধরে হাকালুকি হাওরে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। এতে উপজেলার তালিমপুর, সুজানগর, বর্ণী, দাসেরবাজার ও নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।

শনিবার হাকালুকি হাওরে বন্যার পানি কিছুটা কমলেও রোববারের কয়েক দফা ভারি বৃষ্টির কারণে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। গত ১ সপ্তাহ ধরে উপজেলার ৫ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের অন্তত ৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিবন্দী হয়ে পড়ে। এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানে বিকল্প জায়গায় ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সরেজমিনে বুধবার (২৭ জুন) পানিবন্দি কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম। কোন বিদ্যালয়ে ৫ থেকে ১০ জন। আবার কোনটাতে ১৫ থেকে ২০ জন। কোনো প্রতিষ্ঠান আবার শিক্ষার্থী শূন্য।

সদর ইউনিয়নের টেকাহালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে দেখা যায় পঞ্চম শ্রেণীর ৬জন শিক্ষার্থী এসেছে। ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষিকা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘বন্যার কারণে প্রতিদিন ৪-৫জনের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত হয় না। অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বাড়ি পানিবন্দি। যারা আসছে তাদের নিয়ে চলে ক্লাস। স্কুলের দুই পাশে নদী। একটু বৃষ্টিতে নদীর পানি বেড়ে স্কুলের আঙ্গিনায় ও শ্রেণীকক্ষে পানি প্রবেশ করে। ভয়ে অনেক অভিভাবক বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না।’

পাটনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সজল সরকার বলেন, ‘বিদ্যালয়ের চারদিকে পানি। নিচের তলায় অফিস কক্ষে পানি ঢুকে আসবাবপত্র ভিজে গেছে। প্রায় দুই ফুট পানি। যার কারণে পাঠদান করানো যাচ্ছে না। দ্বিতীয় তলায় শ্রেণীকক্ষে অফিসের কাজ চলছে। নৌকা দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয় আমাদের। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই।’

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিজ মিয়া বলেন, ‘৪২টি স্কুলের রাস্তা, মাঠ ও শ্রেণীকক্ষে পানি ঢুকেছে। এগুলোর পাঠদান বন্ধ না হলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। ৯টি স্কুলের পাঠদান বন্ধ ছিল কয়েকদিন। তবে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান কার্যক্রম বিকল্প জায়গায় নেওয়ার জন্য গত (২৬ জুন) মঙ্গলবার শিক্ষা কমিটির জরুরি মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘স্কুলের শ্রেণি কার্যক্রমের বিষয়ে শিক্ষা কমিটির মিটিং হয়েছে। যে সকল স্কুলের শ্রেণীকক্ষ পানিতে নিমজ্জিত। সে সকল স্কুলের শিক্ষক ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। বিকল্প জায়গায় পাঠদান করানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এছাড়া বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন সবধরণের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র। বন্যা কবলিত ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বেচ্ছাসেবক টিম এবং উপজেলা ভিত্তিক আরো ৩টি টিম গঠন হয়েছে। এরা প্রয়োজন মত খাবার স্যালাইন, ওষুধ, শুকনো খাবার ও ত্রাণ বিতরণ করবে। তিনি আরো জানান, পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী মজুত রয়েছে।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত