০৩ জুলাই, ২০১৮ ১৬:৩৯
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নে একটি বাড়ির নলকূপের পানিতে কীটনাশক প্রয়োগ করার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২ জুলাই) রাতের আঁধারে মাধবপুর ইউনিয়নের লঙ্গুরপাড় গ্রামের মৃত সিদ্দেক মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে কমলগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
কমলগঞ্জ থানায় করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে মঙ্গলবার দুপুরে লঙ্গুরপাড় গ্রামে মৃত সিদ্দেক মিয়ার বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা নলকূপের পানিতে বিষ (কীটনাশক) ঢেলে দেয়। সকালে বাড়ির লোকজন ঘুম থেকে উঠে হাতমুখ ধূতে ও পানি নিতে নলকূপের সামনে গেলে নলকূপের ভিতর থেকে কীটনাশক জাতীয় বিষের দুর্গন্ধ বের হয়। কলে চাপ দিয়ে পানি বের করলে এ পানিতে তৈলাক্ত আবরণ দেখা যায়। এর পর থেকে বাড়ির লোকজন এ নলকূপ থেকে পানি নিচ্ছেন না।
বাড়ির মালিক মৃত সিদ্দেক মিয়ার স্ত্রী মেহেরুন নেছা চৌধুরী এ প্রতিনিধিকে বলেন, তাদের প্রতিবেশী মৃত রহিম উল্যার ছেলে হায়দর আলীদের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। স্থানীয়ভাবে এ জমিজমার বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করলে হায়দর আলী সালিশে আগ্রহী না হওয়ায় ব্যর্থ হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বড় ছেলে বশির উদ্দীন ঢাকাস্থ দুদক অফিসে উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ও ছোট ছেলে বিমান বাহিনীতে কর্মরত বলে বাড়িতে ছোট ছোট মেয়ে ও তিনি একা থাকার সুযোগে প্রতিপক্ষ হায়দর আলী ন্যাক্কারজনক কাজটি করতে পারে বলে তিনি সন্দেহ করছেন। তাই মঙ্গলবার দুপুরে ছোট মেয়ে নাসিমা আক্তারকে দিয়ে কমলগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ করিয়েছেন মেহেরুন নেছা জানান।
অভিযোগ সম্পর্কে কথা বলার চেষ্টা করে হায়দর আলীকে না পেলেও তার ছেলে জমশেদ আলী এ প্রতিনিধিকে জানান, বশির উদ্দীনের পরিবারের সাথে তাদের কোন বিরোধ নেই। অহেতুক তাদেরকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
মাধবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জমি নিয়ে এই দুই পরিবারের বিরোধ ও সালিশের উদ্যোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তবে সালিশ বৈঠক হয়নিও বলেও জানান ইউপি চেয়ারম্যান।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোকতাদির হোসেন পিপিএম লঙ্গুরপাড় গ্রামে নলকূপে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ গ্রহণের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ অভিযোগে সরেজমিন তদন্ত চলছে। তদন্তক্রমে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও ওসি মো. মোকতাদির হোসেন পিপিএম জানান।
ঘটনাস্থলে তদন্তকারী কমলগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক ফরিদ আহমদ বলেন, নলকূপে পানিতে কিছুটা গন্ধ পাওয়া গেছে। তার সাথে কমলগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা গিয়ে আলামত হিসাবে কিছু পানি সংগ্রহ করে নলকূপটি সিলগালা করে এসেছেন। সংগৃহীত পানি পরীক্ষার জন্য মৌলভীবাজার সিভিল সার্জনের অফিসে পাঠানো হচ্ছে।
আপনার মন্তব্য