০৪ জুলাই, ২০১৮ ০০:২৩
১/১১ এর চিহ্নিত দালাল এবং সরকারের এজেন্সি হিসেবে কাজ করে আসা বিতর্কিত বিএনপি নেতার ইন্ধনে দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলে আসছে। এরই অংশ হিসেবে সিসিক নির্বাচনে দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যাক্তিকে প্রলোভনের মাধ্যমে অযোগ্য, অশিক্ষিত, অনভিজ্ঞ এবং দুরদর্শীহীন কর্মীদেরকে দিয়ে সংগঠনের মূল দায়িত্বে মনোনীত করা হয়েছে। যা সংগঠনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। যার কারণে দলের দুঃসময়ে শিক্ষিত, ত্যাগী, ন¤্র, ভদ্র, নির্যাতিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সংগঠনের কাজ করার মনোবল হারিয়ে ফেলেছে। কালো টাকার আতাত করে সিলেট ছাত্রদলের এ কমিটি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর জিন্দাবাজারস্থ সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এমন তথ্য তুলে ধরেন সিলেট ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির নেতা ও পদবঞ্চিতরা। তারা বলেন, গঠনতন্ত্র পরিপন্থি কমিটি দিয়ে ছাত্রদলের ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন রুবেল। উপস্থিত ছিলেন এমসি কলেজের সাবেক আহ্বায়ক বদরুল আজাদ রানা, নবগঠিত কমিটি থেকে পদত্যাগ করা জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি নজরুল ইসলাম, সহ সভাপতি মাশরুর রাসেল, যুগ্ম সম্পাদক সোহেল ইবনে রাজা, আনোয়ার হোসেন রাজু, শাকিল রহমান, মহানগর ছাত্রদলের সহ সভাপতি আবদুল হাসিব, শিহাব খান, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাহিত্য প্রকাশনা সম্পাদক কামরান আহমদ, ছাত্রদল নেতা ইমরুল হোসেন, লোকমান হোসেন, মঞ্জুর আহমদ প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে আশরাফ উদ্দিন রুবেল বলেন, গত ১৩ জুন সিলেট ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়। এতে মৎস্য আড়ৎ ব্যবসায়ী নেতা, বিবাহিত ও ৩ সন্তানের জনক, চিহিৃত ছিনতাইকারী এবং স্কুলের গন্ডি পেরুতে পারিনি এমন কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া হয়েছে। যার জন্য সিলেটের তৃণমুল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মর্মাহত ও বিষ্মিত।
তিনি বলেন, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন মৎস্য ব্যবসায়ী ও সাধারণ সম্পাদক দিলোয়ার হোসেন দিনার মুরগী ব্যবসায়ী। তারা দু’জনের একজন এসএসসি উত্তীর্ণ, অন্যজন অকৃতকার্য। আছে স্ত্রী-সন্তানও। একই অবস্থা মহানগর ছাত্রদলের। সভাপতি সুদীপ জোতি এসএইচএসসি পাশ করলেও চাকুরী করছেন সিলেট কোর্টের মোহরী হিসেবে। আর সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি আহসান ২০০৩ সালে ছাত্রলীগ থেকে ছাত্রদলে যোগ দেন। এরপর থেকে ছিলেন প্রবাসে। তিনিও এইচএসসি পাশ করতে পারেননি।
বক্তারা বলেন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সুমন ২০১০ সালে মৎসজীবি ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে সহ সভাপতি পদে পরাজিত হন। সাধারণ সম্পাদক দিনার লেখাপড়া ছেড়ে প্রবাসে ছিলেন। সেখান থেকে ফিরে তিনি মুরগী ব্যবসায় সম্পৃক্ত হন। মহানগর সভাপতি এ্যাষ সিলেট কোর্টে মোহরী হিসেবে চাকুরী করছেন। সাধারণ সম্পাদক আহসান বিএনপির বড় এক নেতার ভাগ্নে। ২০০৩ সালে তিনি ছাত্রলীগ থেকে ছাত্রদলে যোগদান করেন। এরপরে তিনি প্রবাসে চলে যান। সম্প্রতি দেশে ফিরে তীর নামক জুয়া খেলা পরিচালনা করেন তিনি। সংগঠনের গুরুত্বপূর্ন দায়িত্বে থাকা এ চারজনই অযোগ্য। গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে তাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন। পাশাপাশি মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন।
আপনার মন্তব্য