নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ জুলাই, ২০১৮ ০১:০৫

আরিফের সম্পদ বেড়েছে, কামরানের আয় বেশি

সিলেট সিটি নির্বাচন

গত পাঁচ বছরে সম্পদ বেড়েছে সিলেট সিটি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর। এই পাঁচ বছরই তিনি সিলেট সিটির মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন। অপরদিকে সাবেক মেয়র ও আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের নিজের সম্পদ কিছুটা কমলেও বেড়েছে তাঁর স্ত্রীর সম্পদ। কামরানের বার্ষিক আয়ও আরিফের চাইতে বেশি।

গত ২৮ জুন সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে আরিফুল হক চৌধুরী ও বদরউদ্দিন আহমদ কামরান মনোনয়ন পত্রের সাথে হলফনামায় নিজেদেও সম্পদেও হিসেবও জমা দেন। সিলেট সিটির সর্বশেষ ২০১৩ সালের নির্বাচনেও আরিফুল হক ও বদরউদ্দিন আহমদ কামরান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এই দুই নির্বাচনের হলফনামা তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্পদের এই হিসেব পাওয়া গেছে।

তবে হলফনামায় দেওয়া সম্পদের এসব তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, তাদের যে পরিমাণ সম্পদ আছে বলে শোনা যায়, সে তুলনায় হলফনামায় দেওয়া সম্পদের পরিমাণ খুবই কম। এই তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই কওে দেখা দরকার।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আলীমুজ্জামান বলেন, সম্পদের তথ্য যাছাই বাছাই করা আমার এখতিয়ার বর্হিভূত। আমরা এই তথ্যগুলো নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে দিয়ে দিয়েছি। স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে ও পোস্টার ও লিফলেট ছাপিয়ে এগুলো প্রচার করবো। কেউ যদি এসব তথ্যের ব্যাপারে চ্যালেঞ্জ করেন তবে নির্বাচন কমিশন অবশ্যই তা খতিয়ে দেখবে।

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোট ৯ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এদের মধ্যে ৩ জনের মনোনয়ন গত ২ জুলাই বাছাইয়ে বাতিল হয়ে যায়। বাকী ছয় মেয়র প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের বার্ষিক আয় সবচেয়ে বেশি, আর সদ্য বিদায়ী মেয়র বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর সম্পদের সঙ্গে বেড়েছে দেনাও।
কামরান ‘বালি, পাথর সরবহরাকারী ও কমিশন এজেন্ট’ পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন হলফনামায়। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দলের কেন্দ্রীয় এই সদস্যের বার্ষিক আয় ২৪ লাখ ৯১ হাজার ৪০৩ টাকা।

তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মূল্য দুই কোটি ২৪ লাখ ৭৩১ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা টাকার পরিমাণ এক কোটি ৫৫ লাখ ৪২ হাজার। নগদ চার লাখ ৫৩ হাজার ৫৫২ টাকা এবং প্রায় ৭ লাখ টাকা মূল্যের অলংকার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র রয়েছে বলেও হলফনামায় উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগের এ প্রার্থী।

তাছাড়া সোনালী ব্যাংকে তার ৬৮ লাখ ৮০ হাজার ২৮২ টাকা দেনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন কামরান।

২০১৩ সালের হলফনামায় কামরান পাঁচ কোটি ১৬ লাখ ১২ হাজার ৬১২ টাকার সম্পদের থাকার কথা উল্লেখ করেছিলেন।

কামরানের সম্পদ কমলেও গত পাঁচ বছরে তাঁর স্ত্রী মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসমা কামরানের সম্পদ বেড়ে গেছে দ্বিগুণ।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, আসমা কামরানের তিন কোটি ৪৫ লাখ এক হাজার ৩৯০ টাকা মূল্যের আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে। আর অকৃষি জমি রয়েছে দুই কোটি ৩০ লাখ ১৩ হাজার ৫৩১ টাকার।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে দুই কোটি পাঁচ লাখ ৯৪ হাজার ২০০ টাকা। সাড়ে ৬ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি এবং প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের অলংকার, বন্ড, ঋণপত্র ও শেয়ার, আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে আসমার।

স্ত্রীর সম্পদ বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, আমাদের যৌথ ব্যবসা। আর তাঁর (স্ত্রীর) নামে আলাদা করে কিছু সম্পত্তি আছে।

গত বছরের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী হলফনামায় আইনগত কারণে সম্পদ বেশি দেখানো হয়েছে জানিয়ে কামরান বলেন, এটা আসলে গত বছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা। তাই সম্পদ বেশি দেখাচ্ছে।

বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় এক কোটি ৯৪ লাখ ৯৮ হাজার ৮৩২ টাকা। এর মধ্যে নগদ ১৯ লাখ ১৮ হাজার ৯৬৭ টাকা, ১১ লাখ ২৫ হাজার ৭৭ টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৭৯ লাখ ৩৬ হাজার ৯১৩ দশমিক ৩৪ টাকা, ৬৫ লাখ ৩৬ হাজার ৬০০ টাকার শেয়ার, ১৩ লাখ ১৫ হাজার ২৭৫ টাকার প্রাইজবন্ড, ৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা সমমূল্যের গাড়ি, দেড় লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী, এক লাখ টাকার আসবাবপত্র ও ৩০ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার রয়েছে তাঁর।

হলফনামায় আরিফ আট দশমিক ৫৩ একর কৃষিজমি, পাঁচ দশমিক ৫৩ একর অকৃষিজমি, সেমিপাকা ৩টি ও ২টি দালানের কথা উল্লেখ করলেও তার মূল্য উল্লেখ করেননি।
তিনি পূবালী ব্যাংকে ৭৭ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা ও সিটি ব্যাংকে ১৫ লাখ ৯৮ হাজার ৫৩ টাকা দেনা থাকার কথা উল্লেখ করেছেন।

২০১৩ সালের হলফনামায় তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেছিলেন প্রায় ৩ কোটি টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় সাত লাখ ৫৮ হাজার ১২০ টাকা।

আরিফুলের স্ত্রী শ্যামা হক চৌধুরীর আয় ছয় লাখ ৬৮ হাজার ৩০০ টাকা। এ ছাড়া তাঁর মেয়ের মালিকানাধীন বাসা থেকে ভাড়া এক লাখ আট হাজার ও নির্ভরশীলদের কৃষি খাত থেকে ৩০ হাজার টাকা পান। অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছয় লাখ ৬৮ হাজার ৩০০ টাকা।

এর মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ১৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা, স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ দুই লাখ ১১ লাখ ৩০ হাজার টাকার একটি পিকআপ ভ্যান, এক লাখ ৫৩ হাজার ৪৫০ টাকার আসবাবপত্র, এক লাখ ১২ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার ও ৪৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছ বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন আরিফুল।
এ ব্যাপারে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ব্যাংকঋণ নিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারিত করায় সম্পদ বেড়েছে উল্লেখ করা হলেও আসলে সম্পদ কমেছে। মেয়র থাকাকালে ২৯ মাস জেলে ছিলাম। ওই সময় আমাদের আয়ের একমাত্র উৎস গবাদিপশুর খামার পরিচালনায় ব্যাংক ঋণ নেওয়া হয়েছিল। ব্যাংকঋণ বিবেচনায় আমার সম্পদ আসলে বাড়েনি, বরং কমেছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত