০৪ জুলাই, ২০১৮ ২৩:৩৪
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় পাহাড়ি ঢল আর অতিবৃষ্টির কারণে সুরমা নদীর পানি এখন বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হয়ে গেছে উপজেলার নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন উপজেলার প্রায় অর্ধ শতাধিক গ্রামের মানুষজন।
কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার চলাচলের কয়েকটি রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং ছাতক-দোয়ারাবাজারের একমাত্র রাস্তার তিনটি স্থান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়াতে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া সুরমার পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় তলিয়ে গেছে সদ্য রোপণ করা আমনের বীজতলা ও আউশধান।
রাস্তাগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়াতে উপজেলা সদরের সাথে নরসিপুর, বাংলাবাজার, বোগলাবাজার, লক্ষ্মীপুর ও সুরমা সহ ৫ টি ইউনিয়নে মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
তাছাড়া পানিবন্দি রয়েছে সদর ইউনিয়নের রাখালকান্দি, রায়নগর, বাগরা, সুন্দরপই, বড়বন্দ, গুচ্চগ্রাম, তেগাংঙ্গা, মাইজখলা, আংশিক নৈনগাঁও গ্রাম। সুরমা ইউনিয়নের শরিপপুর, ভোজনা, বৈটাখাই, নুরপুর, সুনাপুর, আলীপুর, নন্দিগ্রাম, ইসলামপুর, কাউয়াগড়, উমরপুর ভুজনা, কালিকাপুর ও কদমতলি এলাকা। এতে করে বড় ধরণের দুর্ভোগে পড়েছে এসব এলাকার জনসাধারণ।
সুরমা ইউনিয়নের রাবার ডাম্পের ভাঁঙ্গা বেড়ি বাঁধটি মেরামত না করার কারণে প্রতিবার পাহাড়ি ঢলের পানি মহব্বতপুর বাজারে ঢুকে বাজারের সকল দোকানপাট পানির নিচে তলিয়ে যায়। রাবার ডাম্পের বেড়ি বাঁধটি খোলা থাকার ফলে বাঁধের আশপাশের গ্রামগুলো সবসময় পানি বন্দি অবস্থায় থাকতে হয় বলে জানা যায়।
অপরদিকে দিনের পুরোটা সময় ধরে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ার ফলে উপজেলার মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডেও ব্যাঘাত ঘটছে। জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। পানি বাড়ার সাথে সাথে সুরমা নদীর ভাঙ্গনও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এভাবে অবিরাম বৃষ্টি চলতে থাকলে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বড় ধরণের বন্যার আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা চলছে। অনেক বিদ্যালয়ে পানি ওঠাতে ব্যাঘাত ঘটছে পরীক্ষায়। এতে বৃহস্পতিবারের (৫ জুলাই) পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। যদি পানি বৃদ্ধি পায় তাহলে চলতি পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছেন- দোয়ারাবাজার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মালেক।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীর প্রতীক বলেন, অতি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারণে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে পানিবন্দি জনগণের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে যোগাযোগ করা হবে।
বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ বলেন, যে সব এলাকার ঘর বাড়িতে পানি উঠেছে সেই সব মানুষদের আশ্রয়ের জন্য পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া বন্যার জন্য দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
আপনার মন্তব্য