০৫ আগস্ট, ২০১৮ ১৯:২৯
জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ আইনের অতিরিক্ত সচিব কাজী আ. খ. ম. মহিউল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। কেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রসূতি মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যের দিক বিবেচনা করে দ্রুত সংস্কার কাজ করা হবে।
রোববার (৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সিলেটের জৈন্তাপুরে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ২৪/৭ (সার্বক্ষণিক) স্বাভাবিক প্রসব সেবা জোরদারকরণ বিষয়ক কর্মশালা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এমসিএইচ সার্ভিসেস ইউনিটের আয়োজনে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ সিলেটের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. কুতুব উদ্দিনের সভাপতিত্বে, এসসিএইচ ইউনিট প্রোগ্রাম ম্যানেজার এবিএম সামসুদ্দিন আহমেদ এর উপস্থাপনায় অবহিতকরণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন।
তিনি স্বাস্থ্য পরিদর্শিকাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাদের কাজের জন্য গোটা জাতি গর্বিত। আপনাদের কারণে জৈন্তাপুর উপজেলা বিভাগের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে এবং কেন্দ্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। স্বাস্থ্য পরিদর্শকদের প্রতিটি বাড়ীতে গিয়ে বুঝাতে হবে বাড়ীতে নয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সন্তানের নিরাপদ ভূমিষ্ঠ করান। প্রসূতিতে আর কোন মায়ের মৃত্যু নয়, স্বাভাবিক প্রসূতিতে মায়েদের নিশ্চয়তা চাই।
বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার সিলেট বিভাগের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. মতিউর রহমান, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আজম খান, পরিচালক এমসিএইচ সার্ভিসেস ও লাইন ডাইরেক্টর এমসিআরএইচ ডাক্তার মোহাম্মদ শরীফ, ডাক্তার উমরগুল আজাদ, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌরীন করিম, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান চৌধুরী, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী জয়মতি রানী, ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুর এলাহী সম্রাট, এখলাছুর রহমান, শাহ আলম চৌধুরী তোফায়েল, বাহারুল আলম বাহার, আমিনুর রশিদ, জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুবল চন্দ্র বর্মণ, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সদস্য গোলাম সরওয়ার বেলাল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, জৈন্তাপুরে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ২৪/৭ (সার্বক্ষণিক) স্বাভাবিক প্রসব সেবা আরও জোরদার করা। মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার কমানো এবং নিরাপদ প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবকে উৎসাহিত করার লক্ষে এই কর্মশালার আয়োজন। বাণিজ্যিক হাসপাতালে করা অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান সেকশানের হার কমবে বলে জানান আলোচকরা। স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা আরও বেশি জোরদার করতে হবে যাতে একজন মা প্রসব সেবাসহ অন্যান্য সেবা সহজে পেতে পারেন সেদিকে গুরুত্বারোপ করতে হবে এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রকে শক্তিশালী করে স্বাভাবিক প্রসব সেবা নিশ্চিতকরণে সর্বাত্মক সহযোগিতার আহবান জানান তারা।
পরিচালক এমসিএইচ সার্ভিসেস ও লাইন ডাইরেক্টর এমসিআরএইচ ডাক্তার মোহাম্মদ শরীফ বলেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে উপজেলা পর্যায়ের এ কর্মশালাগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে। যার মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণের অংশীদারিত্ব বাড়বে বলে আশা করা যায়। উপজেলায় প্রাতিষ্ঠানিক স্বাভাবিক প্রসব সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া জরুরী প্রসূতি সেবায় গর্ভবতী মা এবং তার পরিবারকে অর্থ সঞ্চয়ের বিষয় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে মায়ের ব্যাংক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মায়ের ব্যাংক কার্যক্রমটি মূলত দরিদ্র গর্ভবতী মায়েদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এ কর্মসূচিটি প্রসব সেবার পরিবারের সকলকে আরও দায়িত্বশীল করতে অনুপ্রাণিত করবে এবং জরুরী প্রসূতিদের আর্থিক সংকট দূর করবে।
আপনার মন্তব্য