নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:৪১

আজ কি অপেক্ষা ফুরোবে আরিফের?

জয় নিশ্চিত। তবু অপেক্ষাতেই থাকতো হয়েছিলো আরিফুল হক চৌধুরীকে। মাত্র ক'টি ভোটের ব্যবধানের জন্য আজকের পুনঃনির্বাচনের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয় তাকে। ৩০ জুলাই নির্বাচন শেষে নিরাপদ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও বিজয়ের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠতে পারেননি সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিএনপির এই মেয়র প্রার্থী।

আজকে কী আরিফের এই অপেক্ষা ফুরোবে? বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে তাকে?- এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য আজ অন্তত সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে।

৩০ জুলাইয়ের নানা অভিযোগের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে যান আরিফুল হক। নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে দুপুরেই হাল ছেড়ে দিয়ে নিজেকে অনেকটা গৃহবন্দি করে ফেলা আর বিকেলে নির্বাচন প্রত্যাখানের ঘোষণা দেওয়ার পরও রাতে ভোটগণনায় দেখা যায়- অনেকটা অবিশ্বাস্যভাবে এগিয়ে আছেন আরিফুল হক চৌধুরী। দুটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত হয়ে পরায় সে রাতে বিজয় নিশ্চিত হতে পারেননি আরিফ। আজ তার নিশ্চিত হওয়ার দিন। ফের সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচিত হওয়ার দিন। স্থগিত দুটি কেন্দ্রে আজকেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

গত ৩০ জুলাইয়ের নির্বাচনে ১৩৪ কেন্দ্রের মধ্যে ১৩২ কেন্দ্রের ভোট গণনায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর প্রাপ্ত ভোট ৯০ হাজার ৪৯৬। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান পান ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট। ফলে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর চেয়ে ৪ হাজার ৬২৬ ভোটে এগিয়ে আছেন।

ওইদিন কেন্দ্র দখল ও ব্যালটবাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনায় গাজী বুরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হবিনন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।

স্থগিত হওয়া গাজী বুরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার ২ হাজার ২২১ জন; আর হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার ২ হাজার ৫৬৬ জন। সব মিলিয়ে এই দুই কেন্দ্রে ভোটের চার হাজার ৭৮৭ জন।

দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান স্থগিত দুই কেন্দ্রের ভোটের চেয়ে কম হওয়ায় ওই দুই কেন্দ্রে পুনঃভোটের আয়োজন করা হয়।

এ ব্যাপারে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমি শতভাগ আশাবাদী স্থগিত হওয়া দুটি কেন্দ্রের ভোটাররা আমাকে আগের মতোই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। জয়ের ব্যাপারে আমি নিশ্চিত রয়েছি।’

এই দুটি কেন্দ্রে যাতে ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারেন সেজন্য নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার জন্য তিনি সিলেট নির্বাচন অফিসের প্রতি আহ্বান জানান।

আরিফুল হক আরও জানান, স্থগিত হওয়া গাজী বুরহানউদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই হাজার ২২১ ভোটারের মধ্যে মারা গেছেন ৮০ জন ও বিদেশে আছেন ৮০ জন। অন্যদিকে স্থগিত হওয়া হবিনন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের মোট ভোটার ২ হাজার ৫৬৬। এর মধ্যে মারা গেছেন ৮০ জন ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আছেন ৮০ জন। ওয়ার্ড ছেড়ে চলে গেছেন ২৫-৩০ জন। এসব বিষয় নিয়ে তিনি লিখিতভাবে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে অভিযোগ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘যদি অভিযোগ না করতাম তাহলে দেখা যেত মৃত মানুষরাই ভোট দিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ কী করতে পারে তা তারা ৩০ জুলাই দেখিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমার সঙ্গে জনগণ থাকায় তারা আমার জয় ছিনিয়ে নিতে পারেনি।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত